শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান মায়াপুরের আধ্যাত্মিক মানচিত্রে যুক্ত হল নতুন পালক। মকর সংক্রান্তির পুণ্যতিথিতে শ্রীনাথপুরে উদ্বোধন হল নবনির্মিত শ্রী শ্রী গৌর-নিতাই মন্দিরের। গৌড়ীয় বৈষ্ণব অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এবং শ্রীল ভক্তি স্বরূপ তীর্থ মহারাজের নির্দেশনায় এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উদ্বোধন উপলক্ষে চার দিনব্যাপী উৎসবে মাতল মায়াপুর।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় এলাকা ছাড়াও ভিন রাজ্য থেকে কয়েক হাজার ভক্ত ও সাধু-সন্তের সমাগম ঘটে। প্রতিদিন পুজো, নামসংকীর্তন এবং মহাপ্রসাদ বিতরণে মন্দির চত্বর এক মহামিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়। সন্ধ্যার আকর্ষণে ছিল বৃন্দাবন থেকে আসা শিল্পীদের পরিবেশিত ধর্মীয় নাটক। কীর্তন ও ভক্তিগীতিতে মায়াপুরের বাতাস যেন আরও এক বার মহাপ্রভুর ভাবধারায় সিক্ত হল।
প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর মাত্র দেড় বছরের পরিশ্রমে তৈরি হয়েছে এই সুদৃশ্য মন্দির। মন্দিরটি দোতলা। ওপরে উঠলেই দেখা যায় বৈষ্ণব আচার্যদের প্রতিকৃতি। মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা এবং গৌর-নিতাইয়ের বিগ্রহ। এ ছাড়াও ভক্তপ্রহ্লাদ ও নৃসিংহদেবের মূর্তিও রয়েছে সেখানে। গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজে শ্রীচৈতন্য (গৌর) এবং নিত্যানন্দ (নিতাই)-এর এই যুগল বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ভক্তরা।
মন্দিরের সেবকরা জানান, বর্তমান যুগে মানুষের মধ্যে আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ক্রমে ফিকে হয়ে আসছে। আচার্য শ্রীল ভক্তি স্বরূপ তীর্থ মহারাজ দীর্ঘ ৩০ বছর বিদেশে কৃষ্ণনাম প্রচার করেছেন। মানুষের হৃত বিশ্বাসকে পুনরুজ্জীবিত করতেই মহাপ্রভুর ধাম মায়াপুরে এই মন্দির নির্মাণের সংকল্প করেছিলেন তিনি।
মায়াপুরের তীর্থযাত্রীদের জন্য এই নতুন মন্দির আগামী দিনে আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে আশা আয়োজকদের। শ্রীনাথপুরের এই নতুন মন্দির যে এলাকার আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল, সে বিষয়ে একমত নবদ্বীপ-মায়াপুরের ভক্ত সমাজ।
