কানাডায় ভল্লুকের হামলায় মৃত্যু হল মিক্সড মার্শাল আর্টের উঠতি খেলোয়াড় ভারতীয় যুবক ঋষিকেশ কোলোথের। উত্তর সাসকাচোয়ানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইউরোনিয়ম খনির অনুসন্ধান চালাচ্ছে কানাডা সরকার। মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সেখানে প্রযুক্তিকর্মী হিসাবে কাজ করছিলেন কেরলের বাসিন্দা ২৭ বছরের ওই যুবক। কাছের নর্ডবাই হ্রদের ধারে আচমকা ভল্লুকের হামলায় ক্ষতিবিক্ষত হন ঋষিকেশ। অতিরিক্ত রক্তপাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।
জানা গিয়েছে, বছর তিনেক আগে কানাডা যান ঋষিকেশ। ব্রিটিশ কলোম্বিয়ার পেন্টিকটনের বাসিন্দা তাঁর দাদা অর্জুন। সেখানে দাদার সঙ্গে থেকে মার্শাল আর্টের পাশাপাশি কানাডার সংস্থার হয়ে চুক্তি ভিত্তিক কর্মী হিসাবে কাজ করছিলেন তিনি। ঘটনাস্থল সাসকাটন থেকে ৮৫০ কিলোমিটার উত্তরপূর্বের নির্জন বনাঞ্চল, নর্ডবে হ্রদের ধারে। এই অঞ্চলে ভল্লুকের উপদ্রব নতুন কথা নয়। বিরাট চেহারার প্রাণীটি আচমকাই ঋষিকেশের উপরে হামলা চালায়। কাছেই থাকা ইউরেনিয়াম অনুসন্ধান প্রকল্পের আরেক কর্মী গুলি করে মারে ভল্লুকটিকে। যদিও ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছে ভারতীয় যুবকের।
ইউরেনিয়ামএক্স ডিসকভারি কর্পোরেশনের সিইও এসেন বোল্ডখু শোকবার্তায় জানিয়েছেন, "এই মর্মান্তিক ক্ষতিতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমাদের কর্মচারী, ঠিকাদার এবং প্রকল্পে কর্মরত সকল কর্মীর নিরাপত্তা ও কল্যাণ আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, এবং তা সর্বদাই থাকবে।" যদিও প্রশ্ন উঠছে, নিরাপত্তা গাফিলতি না থাকলে ঋষিকেশের মৃত্যু হল কীভাবে?
এদিকে ভারতীয় যুবকের মৃত্যুতে শোকগ্রস্ত তাঁর পরিবার। দাদা অর্জুন বলেন, "পেন্টিকটনের স্কোডেন মার্শাল আর্ট থেকে প্রশিক্ষণ নেয় ভাই। ও একটা স্বপ্ন দেখছিল। এভাবে সব কিছু শেষ হয়ে যাবে ভাবতে পারিনি।" বন্যপ্রাণী ও মানুষের উপর আক্রমণ প্রতিরোধকারী সংস্থা রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) এবং সাসকাচোয়ান করোনাস সার্ভিস ঋষিকেশের মৃত্যুর যৌথ তদন্ত করছে।
