প্রবল গরমে পুড়ছে বাংলা-সহ গোটা দেশ। দাবদাহের মধ্যে আমজনতার একটু স্বস্তির জায়গা একটুকরো আম। কিন্তু সেই আমের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে বিষ? এমনটাই দাবি করছে জাপান প্রশাসন। অতীতে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ আম রপ্তানি করা হত জাপানে। কিন্তু কয়েকবছর আগে জাপান সরকার জানায়, ভারতের আমে বিপুল পরিমাণে জীবাণু থাকে। তার ফলে ভারত থেকে আম আমদানি নিষিদ্ধ করেছে জাপান। প্রশ্ন উঠছে, এই 'বিষাক্ত' আমই কি খাচ্ছেন আম ভারতবাসী?
জাপান সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারত থেকে রপ্তানি হওয়া আম জীবাণুমুক্ত করা হয় প্রত্যেক বছর। ভেপর হিট ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে ভারতের মাটিতেই চলে জীবাণুমুক্ত করার কাজ। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমের মধ্যে থাকা পোকা এবং পোকার লার্ভা মরে যায়। জাপানে এই পোকা রুখতে প্রবল কড়াকড়ি করা হয়। কারণ এই পোকার জেরে সেদেশের কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেকারণে রপ্তানির আগেই পরীক্ষা করা হয় ভারতের আম। সম্প্রতি জাপানের আধিকারিকরা দাবি করেন, যথাযথভাবে আমগুলি জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে না। সেকারণেই আমদানি নিষিদ্ধ করেছে জাপান।
ভারত থেকে প্রত্যেক বছর ২.৮ কোটি মেট্রিক টন আম জাপানে আমদানি করা হয়। সেটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার জেরে কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের বিরাট ক্ষতি হতে চলেছে। বেশ কয়েকটি এলাকায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে বলেও অনুমান করা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে চলেছে মহারাষ্ট্রের আলফানসো আমের ব্যবসায়ী এবং কৃষকরা। প্রবল গরমে আম চাষে ইতিমধ্যেই কৃষকরা বেশ সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। আমদানি বন্ধের কারণে আরও বাড়বে তাঁদের সমস্যা।
এহেন পরিস্থিতিতে দেশীয় বাজারে আমের দাম কমতে পারে কিছুটা। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে দেশীয় বাজারে বিক্রি হওয়া আমেও কি পোকা থেকে যাচ্ছে? সেই আমই দেদার কিনে খাচ্ছেন আমজনতা? বিশেষজ্ঞদের মতে, আমের মধ্যে লুকিয়ে থাকা এই পোকার মাধ্যমে বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। পেট ব্যথা, বমি, গা গুলানোর সমস্যায় ভুগতে পারেন। হতে পারে অ্যালার্জিও। তবে এই শারীরিক সমস্যা খুব বড়সড় ক্ষতি করবে না।
