'জন্মিলে মরিতে হইবে অমর কে কোথা কবে'... এই আক্ষেপ মানুষের চিরকালের। কিন্তু এবার আপনাকে সেই সুযোগ দিচ্ছেন এলন মাস্ক (Elon Musk)। সম্প্রতি মস্তিষ্কে চিপ বসানোর যে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন এক্সের মালিক তার সঙ্গে কিন্তু এই অমরত্বের কোনও সম্পর্ক নেই। খুলে বললে বলা যায়, এই অমরত্ব জাগতিক অমরত্ব নয়। বরং তা মৃত্যুর পরেও টিকে থাকার এক অন্যতর উপায়। আর সেই থাকাটা কেবল পৃথিবীর নিরিখেই নয়, বরং মহাবিশ্বের কোলে টিকে থাকা! ভাবছেন ব্যাপারটা কী?
মাস্কের নয়া প্রয়াস গ্রকিপিডিয়া। আর সেখানেই লুকিয়ে এই অমরত্বের চাবিকাঠি। উইকিপিডিয়াকে 'জবাব' দিতেই তিনি শুরু করেছেন এআই-নির্ভর এই তথ্যভাণ্ডার। এক্স হ্যান্ডলে গ্রকিপিডিয়া নিয়ে আলোচনার এক পোস্টে তিনি কমেন্ট করেছেন এই নিয়ে। জানিয়ে দিয়েছেন এখানে নিজের নাম অন্তর্ভুক্তির উপায় কী। এজন্য গ্রকিপিডিয়ায় নিজের বায়োগ্রাফি আপলোড করতে হবে। একবার তা ক্রিয়েট হয়ে গেলেই এর কপি পাঠিয়ে দেওয়া হবে মহাকাশে। সে চাঁদ হোক বা মঙ্গল। কিংবা আরও দূরে... ইন্টারস্টেলার স্পেসে!
একদিন না একদিন আপনার 'কাহিনি'ও মহাকাশের প্রান্তে পৌঁছবে। কোনও এলিয়েন সভ্যতার বাসিন্দার কাছে পৌঁছবে নীল রঙের গ্রহের এক বাসিন্দার জীবনগাথা। হয়তো ততদিনে সেই বাসিন্দা আর জীবিতও নেই।
তবে ঠিক কবে এই মিশন শুরু হবে তা এখনও জানা যায়নি। তবে এটুকু জানিয়ে দেওয়া হয়েছে মাস্কের স্বপ্নের 'এনসাইক্লোপিডিয়া গ্যালাক্টিকা'রই একটি অংশ এটা। তবে যে সময়ই হোক, একদিন না একদিন আপনার 'কাহিনি'ও মহাকাশের প্রান্তে পৌঁছবে। কোনও এলিয়েন সভ্যতার বাসিন্দার কাছে পৌঁছবে নীল রঙের গ্রহের এক বাসিন্দার জীবনগাথা। হয়তো ততদিনে সেই বাসিন্দা আর জীবিতও নেই। অথচ আপনার গল্পটা জেনে যাবে অন্য এক জগতের বাসিন্দা। এও তো অমরত্বই।
মাস্ক বলছেন, 'একদিন অমরত্ব আপনারও হস্তগত হবে।' তাঁর কথা থেকেই পরিষ্কার, শিগগিরি এই 'এনসাইক্লোপিডিয়া গ্যালাক্টিকা' বাস্তবায়িত হবে। বলে রাখা ভালো, কিংবদন্তি কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যিক আইজাক আসিমভের 'ফাউন্ডেশন সিরিজ' থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই গ্রকিপিডিয়ার কথা ভেবেছেন মাস্ক।
