স্বাধীনতার দাবিতে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের ঝাঁজ আরও বাড়ল বালোচিস্তানে। নিজেদের মাটি থেকে পাক সেনাকে উপড়ে ফেলতে 'অপারেশন হেরফ' শুরু করল বালোচ লিবারেশন আর্মি ও অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠী। শনিবার ৫ জেলার ১২টি জায়গায় বালোচদের হামলায় ১০ জন পাক জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে সেনার দাবি, তাদের হামলায় ৩৭ জন বিদ্রোহীর মৃত্যু হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে বালোচ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযানে নামে পাক সেনা। একাধিক জায়গা ঘিরে ফেলে হত্যা করা হয় বালোচ বিদ্রোহীদের। এই হামলার পালটা শুক্রবার রাতে পাক সেনার বিরুদ্ধে একের পর এক হামলা শুরু করে বালোচ লিবারেশন আর্মি। কোয়েটা, পাসনি, মাস্তুং, নুশকি এবং গদর জেলায় সেনাকে লক্ষ্য করে চলে হামলা। পাক সেনার তরফে জানা গিয়েছে, মূলত বন্দুক হামলা ও আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়। পরপর হামলায় ১০ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। সবকটি হামলার দায় স্বীকার করেছে বালোচ লিবারেশন আর্মি।
এদিকে পাক সেনার তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, "সেনা অভিযানে ৩৭ জন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, শহিদ হয়েছেন ১০ জওয়ান। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। মৃতদের মধ্যে শুধুমাত্র কোয়েটাতেই মৃত্যু হয়েছে ৪ জওয়ানের।" এদিকে বিদ্রোহী শিবিরের তরফে জানানো হয়েছে, বালোচিস্তানের সমস্ত সেনাঘাঁটি, পুলিশ থানা ও সরকারি অফিস তাদের লক্ষ্যে। স্বাধীন বালোচিস্তানের লক্ষ্যে তাদের এই অভিযানকে 'অপারেশন হেরফ' নাম দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান থেকে আলাদা হতে চেয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে বালোচিস্তানের জনগণ। পাক সেনার অকথ্য নির্যাতনের প্রতিবাদে সেখানে তৈরি হয়েছে সশস্ত্র সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি। এই বাহিনীকে দমন করতে গোটা বালোচিস্তানে অত্যাচারের সীমা পার করেছে পাকসেনা। পালটা আসছে প্রত্যাঘাত। বর্তমানে আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত পাকিস্তান। পাশাপাশি শাহবাজ সরকারের ঘুম ছুটিয়েছে আর এক বিদ্রোহী সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান। গুরুতর এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বালোচ সংগঠনও হামলার ঝাঁজ বাড়াল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
