সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: শনিবার ভোররাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বোমাবর্ষণের শব্দ শোনা গেল। সেই সঙ্গেই বিমান চলাচলের শব্দও শোনা গিয়েছে। অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বহু এলাকাই ঢেকে যায় অন্ধকারে। যদিও ভেনেজুয়েলা সরকার এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি এখনও, কিন্তু মনে করা হচ্ছে এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে আমেরিকাই। ভেনেজুয়েলার দক্ষিণ প্রান্তে ওই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে। কাছেই সামরিক ঘাঁটি।
উল্লেখ্য, বরাবরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অপছন্দের তালিকায় শীর্ষে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট। দীর্ঘ দিন ধরে সামরিক উত্তেজনা চলছে দুই দেশের। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে সেনা মোতায়েন করেছে আমেরিকা। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অভিযোগ করেছেন তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ শুরু করেছে আমেরিকা। ট্রাম্পের দিকে আঙুল তুলে তাঁর অভিযোগ, “মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে দেশের শাসন ব্যবস্থা বদলের চেষ্টা করছে আমেরিকা।” এই পরিস্থিতিতে নতুন বছরের শুরুতেই আক্রান্ত ভেনেজুয়েলা।
প্রসঙ্গত, গত মাসে ভেনেজুয়েলা এবং তার আশেপাশের অঞ্চলের আকাশসীমা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলায় তেল ট্যাঙ্কার চলাচলে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আসলে বিশ্বের বৃহত্তম খনিজ তেলের ভাণ্ডার হল ভেনিজুয়েলা। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে দৈনিক প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হয়। কিন্তু সাম্প্রতিককালে চিন এবং রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে মাদুরো সরকারের। তাতেই অস্বস্তি বেড়েছে ট্রাম্পের। এর মধ্যেই কয়েকদিন আগে ভেনেজুয়েলার এক বন্দরে হামলা আমেরিকা হামলা চালিয়েছিল বলে দাবি সিএনএন-এর। অভিযোগ করা হয়েছিল, যে ওই বন্দর থেকে মাদক পাচার করা হচ্ছিল। আর সেই কারণেই চালানো হয় হামলা। এবার ফের ভেনেজুয়েলার বুকে পরপর বিস্ফোরণের শব্দ ঘিরে শোরগোল, তাহলে কি যুদ্ধ শুরু করে দিল আমেরিকা?
