সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রাজতন্ত্র না গণতন্ত্র, নেপালের ভবিষ্যৎ কী? গত শুক্রবার থেকে সেদেশে পথে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। রাজতন্ত্র ফেরানোর দাবি তুলছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সরকারের দাবি, প্রাক্তন রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহ-ই ষড়যন্ত্র করে ক্ষেপিয়ে তুলছেন তাঁর সমর্থকদের। যদিও ক্রমশ নেপালে জোরাল হচ্ছে রাজতন্ত্র ফেরানোর দাবি। এই অবস্থায় জ্ঞানেন্দ্রকে গ্রেপ্তারির দাবি তুলেছে শাসক জোট। এমনকী রাজার নিরাপত্তায় কাটছাঁট করেছে কেপি শর্মা ওলি সরকার। সব মিলিয়ে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি হিমালয়ের পাদদেশে।

নেপালের সিপিএনইউএমএল (কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল-ঐক্যবদ্ধ মার্কসবাদী লেনিনবাদী) এবং নেপালি কংগ্রেসের জোট বর্তমানে সরকারে। শাসক জোটের দাবি, জ্ঞানেন্দ্রর উসকানিতেই রাজতন্ত্রের দাবিতে পথে নামছেন তাঁর সমর্থকেরা। পরিকল্পনা করেই দেশে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে শুক্রবারের বিক্ষোভের পর প্রাক্তন রাজার বাসস্থান কাঠমাণ্ডুর 'নির্মল নিবাসে'র নিরাপত্তা কমানো হয়েছে। শুক্রবারের বিক্ষোভের আগে ২৫ জন রক্ষী নিযুক্ত ছিলেন। তা কমিয়ে ১৬ জন করে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে রাজতন্ত্রের সমর্থকদের অভিযোগ, প্রতিবাদীদের উপর অত্যধিক কঠোর নীতি প্রয়োগ করছে ওলি সরকার। সেই কারণেই পালটা হিংসাত্মক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, শুক্রবার বিক্ষোভের সময় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজতন্ত্রের সমর্থকেরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দপ্তরে হামলা চালায়। তাঁদের বিরুদ্ধে দোকানপাট লুট এবং একাধিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ। নেপাল সরকারের সূত্র উল্লেখ করে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রাক্তন রাজাকে গ্রেপ্তার বা গৃহবন্দি করা হতে পারে। জ্ঞানেন্দ্রের যাতায়াতের স্বাধীনতাও খর্ব করা হতে পারে।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে বদলে গিয়েছে নেপালের রাজনৈতিক চরিত্র। ওই বছরের মে মাসে সংবিধান সংশোধন করে ২৪০ বছরের পুরনো রাজতন্ত্র ভেঙে নেপালে প্রতিষ্ঠিত হয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। এর ফলেই পারিবারিক গদি হারান জ্ঞানেন্দ্র শাহ। পাশাপাশি গণতন্ত্রের নেপালে বদলে যায় ধর্মীয় পরিচয়। রাজার আমলে নেপাল ছিল হিন্দু রাষ্ট্র। ২০১৫ সালে অনুমোদিত হয় নতুন ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ সংবিধান। যদিও এখন অতীতে হাঁটতে চাইছে সেদেশের জনতার একাংশ।