shono
Advertisement
Board of Peace for Gaza

ভারত বাদ, গাজার শান্তি কমিটিতে পাকিস্তানকে ডাক ট্রাম্পের! 'বন্ধু' ইজরায়েলের আপত্তি ধোপে টিকল না

গাজার জন্য ট্রাম্পের শান্তিকমিটি ঘোষণাকে তাঁর ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার ‘দ্বিতীয় ধাপ’ বলা হচ্ছে। এই সমিতি আপাতত গাজার শাসনভার নেবে। তদারকি করবে গাজা পুনর্গঠনের দায়িত্বে থাকা টেকনোক্র্যাট কমিটির কাজ। এতে গাজার সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণে জোর দেওয়া হয়েছে।
Published By: Saurav NandiPosted: 07:47 PM Jan 18, 2026Updated: 07:47 PM Jan 18, 2026

গাজার জন্য শনিবার ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তিকমিটির ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই কমিটিতে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি পাকিস্তানকেও আমন্ত্রণ করেছেন বলে দাবি করল ইসলামাবাদ। রবিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিজেই সে কথা জানিয়েছেন। যদিও ওয়াশিংটন এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানায়নি।

Advertisement

আন্তর্জাতিক মহলের অভিমত, যদি পাক প্রধানমন্ত্রীর এই দাবি সত্য হয়, তা হলে ভারতকে বাদ রেখে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণত ভারত-পাকিস্তানকে একই বন্ধনীতে রাখার যে প্রবণতা রয়েছে ওয়াশিংটনের, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আপত্তি জানিয়ে এসেছে নয়াদিল্লি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ, গাজায় শান্তি ফেরানোর মতো জরুরি আন্তর্জাতিক বিষয়ে ভারতকে উপেক্ষা করে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ প্রকারান্তরে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদির সরকারকে বার্তা। নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটনের সম্পর্কে সম্প্রতি যে অবনতি ঘটেছে, এই ঘটনাই তার প্রমাণ।

ঘটনাচক্রে, এ ক্ষেত্রে বন্ধু ইজরায়েলের আপত্তিও মানলেন না ট্রাম্প! মার্কিন প্রেসিডেন্ট গাজা পুনর্গঠনের প্রস্তাবে পাকিস্তান নিজে থেকেই অংশ নিতে চেয়েছিল। সেই মর্মে প্রস্তাবও দিয়েছিল তারা। তার পরেই ইজরায়েল জানিয়েছিল, পাকিস্তানের সঙ্গে তারা কাজ করতে রাজি নয়। ভারতে নিযুক্ত ইজ়রায়েলের রাষ্ট্রদূত রুবেন আজহার বলেছিলেন, ‘‘যাদের আমরা বিশ্বাস করি, শুধু তাদের সঙ্গেই কাজ করি।’’ ইজরায়েলের অভিযোগ, হামাসের শীর্ষ কমান্ডার নাজি জাহির গত তিন বছর ধরে নিয়মিত পাকিস্তানে যাতাযাত করছেন। বৈঠকও করেছেন লশকর-ই-তৈবা এবং জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে। তার প্রেক্ষিতেই রুবেন জানিয়েছেন, তাঁর দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করতে স্বচ্ছন্দ্য বোধ করে না। গাজায় পাক সেনাবাহিনীর যে কোনও ধরনের ভূমিকায় ইজ়রায়েল সরকারের আপত্তি থাকবে।

প্রসঙ্গত, ইজরায়েলের সঙ্গে পাকিস্তানের বিরোধ আন্তর্জাতিক মহলে সর্বজনবিদিত। প্যালেস্তাইনের সমর্থক পাকিস্তান আজও ইজরায়েলকে রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেয়নি। তা নিয়ে ইজরায়েলের ক্ষোভ তো রয়েইছে। সেই কারণে ইজরায়েল কখনওই চায়নি, পাকিস্তানের হাতে পরমাণু বোমা থাকুক। তেল আভিভের বক্তব্য, এতে তাদের জাতীয় নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। আশির দশকে ভারত এবং ইজরায়েল যৌথ ভাবে পাকিস্তানের পরমাণু প্রকল্প আটকানোর চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ করে থাকে পাকিস্তানও।

গাজার জন্য ট্রাম্পের শান্তিকমিটি ঘোষণাকে তাঁর ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার ‘দ্বিতীয় ধাপ’ বলা হচ্ছে। এই সমিতি আপাতত গাজার শাসনভার নেবে। তদারকি করবে গাজা পুনর্গঠনের দায়িত্বে থাকা টেকনোক্র্যাট কমিটির কাজ। এতে গাজার সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণে জোর দেওয়া হয়েছে। সমিতির শীর্ষে রয়েছেন স্বয়ং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তাঁর তৈরি কমিটিতে রয়েছেন প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিও, পশ্চিম এশিয়ায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার, বিশ্ব ব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গা, ধনকুবের মার্ক রোয়ান, আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল। পশ্চিম এশিয়ার শান্তি প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষ দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ থাকবেন ‘হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ’ হিসাবে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement