ভারতকে ফের রুশ তেল কেনার 'অনুমতি' দিল আমেরিকা। দিনদুয়েক আগেই মার্কিন প্রশাসনের তরফ থেকে বলা হয়েছিল, যুদ্ধের আবহে রুশ তেল কেনার অনুমতি দেওয়া হলেও সেই ছাড়পত্র আর কার্যকর হবে না। কিন্তু সেই অবস্থান থেকে সরে এল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার গভীর রাতে মার্কিন রাজস্ব দপ্তর থেকে বিবৃতি জারি করে বলা হয়, আপাতত রুশ তেল কেনার 'ছাড়পত্র' দেওয়া হল সমস্ত দেশকে। এই পদক্ষেপে ভারত লাভবান হবে অনেকটা, সেকথা বলাই বাহুল্য।
শুক্রবার রাজস্ব দপ্তরের তরফ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, আগামী ১৬ মে পর্যন্ত রুশ তেল কিনতে পারবে সমস্ত দেশ। তবে ইতিমধ্যে যে তেল জাহাজে তোলা হয়ে গিয়েছে, স্রেফ সেই তেলটুকুই কেনা যাবে। আসলে যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার উপর নতুন করে কিছু নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে আমেরিকা। তার আগেই রুশ তেলবাহী বহু জাহাজ বেরিয়ে পড়েছিল রপ্তানির জন্য। সেই জাহাজের তেলের কোনও ক্রেতা এই মুহূর্তে নেই। স্রেফ সেই জাহাজগুলি থেকেই তেল কেনা যাবে।
দিনকয়েক আগে মার্কিন রাজস্ব সচিব স্কট বেসেন্ট বলেন, রুশ এবং ইরানি তেল কেনার ক্ষেত্রে যে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। যদি কোনও দেশ রুশ এবং ইরানি তেল কেনে, তাহলে তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হবে বলেই হুঁশিয়ারি দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু মাত্র দু'দিনের মধ্যেই ইউ টার্ন নিয়েছে আমেরিকা। বিবৃতিতে বলা হয়, 'ইরানের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। সেই সময়ে প্রয়োজনীয় তেল যেন সকলে পেতে পারে, সেটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই।'
উল্লেখ্য, ছাড়পত্র পাওয়ার পরে প্রায় ৩০ মিলিয়ান ব্যারেল রুশ তেল ভারতে এসেছে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে রুশ তেল কেনার 'ছাড়পত্র'ও যদি হাতছাড়া হত, সেটা ভারতের পক্ষে যথেষ্ট সমস্যার। তবে আপাতত ভারতকে স্বস্তি দেবে মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত। তবে অতীতে ভারত যেরকম কমদামে রুশ তেল কিনেছে, সেরকমটা হয়তো হবে না আর। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রুশ তেলের দাম হু হু করে বেড়েছে। ভারতকেও হয়তো বর্ধিত দামেই কিনতে হবে তেল। তবে আপাতত দেশে তেলের জোগান অব্যাহত থাকবে বলেই আশা। বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, আসলে রাশিয়ার কাছে ‘নতিস্বীকার’ করে রুশ তেল কেনার ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশগুলিকে অনুমতি দিতে বাধ্য হচ্ছেন ট্রাম্প।
