সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পুতিনের বাসভবনে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার অভিযোগের মধ্যেই 'শান্তির পায়রা ওড়ালেন' ভলোদিমির জেলেনস্কি। বুধবার বর্ষশেষের রাতে তাঁর দাবি, "শান্তি চুক্তি থেকে ১০ শতাংশ দূরে আছি।" যদিও এর সঙ্গেই তিনি জানিয়েছেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি এখনও অমীমাংসিত। মস্কোকে 'পুরস্কৃত' করার বিষয়েও সতর্ক করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ইউরোপের সবচেয়ে বড় সংঘাত ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। যার অবসান ঘটাতে তৎপর হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত কয়েক সপ্তাহে আলোচনার টেবিলে শান্তির পথ সুগমও হচ্ছিল। যদিও ইউক্রেনের ভূখণ্ড রাশিয়াকে পাইয়ে দেওয়ার মাধ্যমে যুদ্ধাবসানে রাজি নয় জেলেনস্কি। বর্ষবরণের রাতে জাতীর উদ্দেশে ভাষণ দেন তিনি। সেখানে বলেন, "আমরা যুদ্ধের অবসান চাই। কিন্তু তার জন্য কোনও মূল্য দিতে রাজি নই। রাশিয়া যাতে ফের আক্রমণ না করে, এই বিষয়েও জোরদার 'নিরাপত্তা গ্যারান্টি' দিতে হবে।" এর সঙ্গে জেলেনস্কি যোগ করেন, "শান্তি চুক্তি ৯০ শতাংশ সম্পূর্ণ। দশ শতাংশ বাকি রয়েছে। এই ১০ শতাংশই ইউক্রেন এবং ইউরোপের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।"
বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক প্রদেশের অধিকাংশ অংশ, পূর্বাঞ্চলের শিল্পসমৃদ্ধ দনবাস অঞ্চল, জাপোরিঝিয়া, খেরসন এবং কৌশলগত ক্রিমিয়া উপদ্বীপ। এই সব অঞ্চল-সহ চারটি প্রদেশকে রাশিয়ার অংশ বলে দাবি করেন পুতিন। অন্যদিকে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইউক্রেনের দোনেৎস্কের যে ছোট অংশ এখনও কিয়েভের দখলে রয়েছে, তা থেকে সেনা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে, যা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এদিকে পুতিনের বাসভবনে হামলার ভিডিও প্রকাশ্যে এনেছে রাশিয়া। ভিডিও প্রকাশ করে মস্কো দাবি করেছে, ৬ কেজি বিস্ফোরক বোঝাই একের পর এক ড্রোন দিয়ে পুতিনের বাসভবনে হামলা চালানো হয়েছিল গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে। সব মিলিয়ে ৯১টি ড্রোন রাশিয়ায় পাঠিয়েছিল ইউক্রেন। যদিও কিভ রাশিয়ার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা ভেস্তে দিতেই এই অভিযোগ তুলছে। পাশাপাশি রাশিয়ার কাছে প্রমাণও চেয়েছিল তারা। ঘটনাচক্রে, তার পরেই এই ভিডিও প্রকাশ করল মস্কো।
প্রসঙ্গত, রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে যুদ্ধ চলছে। দফায় দফায় মধ্যস্থতার চেষ্টা করেও এই সংঘর্ষ থামাতে পারেননি ট্রাম্প। রবিবার রাতেও পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন তিনি। ঘটনাচক্রে, তার পরেই পুতিনের বাসভবনে ইউক্রেন হামলার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ তোলে রাশিয়া। যদিও সেই দাবি‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে কিভ। ট্রাম্পের বক্তব্য, “এটা সংবেদনশীল সময়। এখন এ সব করার সঠিক সময় নয়। কেউ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলে, তার বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা এক বিষয়। কিন্তু কারও বাড়িতে হামলা করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। এখন এই দু’টির মধ্যে কোনওটিই করা উচিত নয়।”
