বেলডাঙার অশান্তির ঘটনায় তদন্ত শুরু করে দিল এনআইএ। যা নিয়ে সরব হলেন বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী ও জনগন উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। বহরমপুর এসিজেএম আদালতের নির্দেশে রবিবার থেকে বেলডাঙার অশান্তির ঘটনায় তদন্তের ভার এনআইএর হাতে চলে গিয়েছে বলে জানান বহরমপুর এসিজেএম আদালতের সরকারি আইনজীবী নীলাদ্রি দও। এরপরেই এই বিষয়ে সরব হন দুই নেতা।
রবিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, ''নতুন করে কোনও অশান্তি ঘটেনি। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোন সাম্প্রদায়িক উওেজনা হয়নি। সংঘর্ষ হয়নি। রক্তারক্তি হয়নি। খুনাখুনি হয়নি। আগুনও ধরিনি। পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ হয়নি। প্রতিবাদ একটা নিশ্চয় হয়েছে। যে প্রতিবাদটা হয়েছে তাঁদের ক্ষোভ উগরে দেওয়ার কারণে। নিজেদের অসহায় মনে করছে। আমাদের ঘরের ছেলে বাইরে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে আক্রমণের শিকার হচ্ছে। তার প্রতিফলন ঘটেছে এই ঘটনার মাধ্যমে। এটার সঙ্গে এনআইএর তদন্ত করার মতো কোন কারণ আছে বলে আমি ব্যক্তিগত মনে করি না।'' ঘটনাকে নিয়ে তিলকে তাল করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদের।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধীর চৌধুরী আরও বলেন, ''আমার জানা নেই, এনআইএর কাছে বেলডাঙার ঘটনায় কেউ তদন্তের দাবি করেছে। আমার মনে হয় এনআইএ নিজে থেকে 'সুমো মোটো' করে এই ঘটনার তদন্তে এগিয়ে এসেছে।'' কংগ্রেস নেতার কথায়, সাধারণ গ্রামের পরিযায়ী শ্রমিক বাইরে রাজ্যে বিপদে পড়েছে। মারা গিয়েছে। মনে হয়েছে খুন করা হয়েছে। কারণ আগে মুর্শিদাবাদে এধরণের ঘটনা ঘটেছে। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে, বিরক্ত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশের জন্য হাতের কাছে সফট টার্গেট রাস্তা - রেল আটকে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়েছিল। তবে এই ঘটনার জন্য পুলিশের ব্যর্থতাকেই দায়ী করেন অধীর চৌধুরী।
তাঁর কথায়, ''ঘটনায় রয়েছে পুলিশের ব্যর্থতা। প্রশাসনের ব্যর্থতা। সরকারের ব্যর্থতা। তাদের (পড়ুন-আন্দোলনকারী) সঙ্গে আলোচনা করতে গেলে অবরোধ পাঁচ ঘন্টা- সাত ঘন্টা থাকত না। প্রশাসন অবরোধ তুলতে কোন উৎসাহী দেখায়নি।'' অন্যদিকে সাংবাদিকদের উপর হামলা নিয়েও রাজ্য প্রশাসনকে তোপ দাগেন কংগ্রেস নেতা।
অধীরের পাশাপাশি এনআইএ তদন্ত নেমে সরব হয়েছেন জনগণ উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান বিধায়ক হুমায়ুন কবীরও। তিনি এদিন জানিয়েছেন, "এনআই এসেছে ভালো কথা। কাদের গাফিলতিতে জাতীয় সড়ক অবরোধ হয়েছিল। কাদের নেতৃত্বে হয়েছিল। কাদের উসকানিতে হয়েছিল। খুঁজে বের করুক।'' যদিও কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্ত নিয়ে হুমায়ুন কবীরের কোন আস্থা নেই বলে জানান। তিনি আরও বলেন, ''এনআই, সিবিআই বলুন কেন্দ্রীয় এজেন্সি গুলো সব ঘটনার তদন্ত ঢিলে করে। এদের সাফল্য শূন্য। এরা রবীন্দ্রনাথের ' নোবেল 'চুরির কিনারা করতে আজও পারেনি।''
