shono
Advertisement
Bela Tarr

প্রয়াত হাঙ্গেরির পরিচালক বেলা টার, 'স্লো সিনেমা'র পথিকৃৎকে হারিয়ে বিষণ্ণ সিনেপ্রেমীরা

‘সেট্যানট্যাঙ্গো’, ‘ড্যামনেশনে’র মতো স্লো ও 'বিষণ্ণ' ছবি তৈরির জন্য জগৎজোড়া খ্যাতি অর্জন করেন তিনি।
Published By: Subhajit MandalPosted: 11:15 PM Jan 06, 2026Updated: 11:15 PM Jan 06, 2026

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রয়াত হাঙ্গেরির বিখ্যাত পরিচালক বেলা টার। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। ‘সেট্যানট্যাঙ্গো’, ‘ড্যামনেশনে’র মতো স্লো ও 'বিষণ্ণ' ছবি তৈরির জন্য জগৎজোড়া খ্যাতি অর্জন করেন তিনি।

Advertisement

ইউরোপীয় চলচ্চিত্র অ্যাকাডেমি মঙ্গলবার বেলা টারের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই নানারকম রোগে ভুগছিলেন বিখ্যাত পরিচালক। ইউরোপীয় চলচ্চিত্র অ্যাকাডেমির তরফে শোকপ্রস্তাবে বলা হয়েছে, 'আমরা অসাধারণ পরিচালককে হারালাম। যাঁর শক্তিশালী রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। তিনি শুধু সহকর্মীদের কাছেই গভীরভাবে সম্মানিত ছিলেন না, বিশ্বজুড়ে দর্শকদের কাছেও ছিলেন সমাদৃত।' ১৯৫৫ সালে হাঙ্গেরির দক্ষিণাঞ্চলের শহর পেচে জন্মগ্রহণ করেন বেলা টার। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বাবার উপহার দেওয়া একটি ক্যামেরা দিয়ে অপেশাদারভাবে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি হাঙ্গেরির অন্যতম পরীক্ষামূলক চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠান বেলা বালাজ স্টুডিওতে যোগ দেন। সেখান থেকেই ১৯৭৭ সালে নির্মাণ করেন তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি ‘ফ্যামিলি নেস্ট’।

ফাইল ছবি।

সিনেমার ইতিহাস বলে যে প্রত্যেক দশকে এমন দু’-একজন সিনেমা করিয়ে আসেন, যাঁরা ছক ভাঙার একটা ট্র্যাডিশন তৈরি করেন। বেলা টারও তেমনই। চলচ্চিত্র জগতে অনেকেই তাঁকে ‘স্লো সিনেমা’ আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ হিসাবে দেখেন। প্রগাঢ়, নিমজ্জিত, সাদাকালো চিত্রগ্রহণ, হিমবাহ সুলভ মন্থরতা, সংলাপের অনাধিক্য-এই ছিল তাঁর ছবির মূল উপাদান। পৃথিবীর একপ্রস্তে প্রায়-বিস্মৃত এক জগতের মধ্যে এক বিশ্বজনীন বিচ্ছিন্নতার আলেখ্য–প্রত্যক্ষ করা যায় ‘ড্যামনেশন’ (১৯৮৭) ছবিতে।

কিন্তু যে ছবি এই প্রত্যেকটি বৈশিষ্ট্যকে বিশ্ব সিনেমার একেবারে প্রথম সারিতে নিয়ে এল, সেই ছবির নাম ‘সেট্যানট্যাঙ্গো’ (১৯৯৪)। সাত ঘণ্টার ছবি ‘সেট্যানট্যাঙ্গো’ হুলুস্থুল ফেলে দেয় পৃথিবীময়। হাঙ্গেরির বিস্মৃতপ্রায় গ্রাম কমিউনিজম ভেঙে পড়ার পর আরও বিপন্ন হতে শুরু করেছে। সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের দুঃসহ কাহিনী হয়ে ওঠে ৪৪০ মিনিটের এই ছবি। তাঁর অন্যান্য ছবির মতোই বেলা টার এই ছবিতে সময়কে নির্মাণ করেন নিজের মতো। এই ছবিটিকে বিশ্ব সিনেমার মাইলফলক হিসাবে ধরা হয়। ২০১১ সালে ‘দ্য তুরিন হর্স’ নির্মাণের পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে চলচ্চিত্র নির্মাণ থেকে অবসর নেন। তবে এরপরও ২০১৭ ও ২০১৯ সালে দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। শেষজীবনে তিনি নতুন পরিচালকদের প্রশিক্ষণ দিতেন। বেলা টারকে হারিয়ে বিষণ্ণ সিনেপ্রেমীরা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
  • প্রয়াত হাঙ্গেরির বিখ্যাত পরিচালক বেলা টার।
  • তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।
  • ‘সেট্যানট্যাঙ্গো’, ‘ড্যামনেশনে’র মতো স্লো ও 'বিষণ্ণ' ছবি তৈরির জন্য জগৎজোড়া খ্যাতি অর্জন করেন তিনি।
Advertisement