সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: থলপতি বিজয়ের শেষ সিনেমার মুক্তি নিয়ে বহাল টালবাহানা। শুক্রবারই দক্ষিণী তারকার দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে সেন্সর বোর্ডকে ‘U/A’ ছাড়পত্র দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল মাদ্রাজ হাই কোর্ট। যে খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিজয়ের (Vijay) অনুরাগী শিবিরে বিজয়োচ্ছ্বাস শুরু হয়েছিল। তবে এবার খবর, এদিন হাই কোর্টের একক বিচারকের রায় ঘোষণার পরপরই একটি ডিভিশন বেঞ্চ সেই রায়ের উপর স্থগিতাদেশ জারি করে। ফলত আইনি জটিলতায় থলপতি বিজয়ের শেষ সিনেমা ‘জন নয়াগন’ (Jana Nayagan)-এর মুক্তি আপাতত বিশ বাঁও জলে।
জানা গিয়েছে, প্রধান বিচারপতি মনীন্দ্র মোহন শ্রীবাস্তব এবং বিচারপতি জি অরুল মুরুগানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চটি বিজয়ের দায়ের করা মামলার শুনানির সময়েই অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে ছবি মুক্তিতে। কিন্তু সেন্সর বোর্ডকে ছাড়পত্র দেওয়ার নির্দেশের ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই কেন ফের রায় বদল? দক্ষিণী সিনেইন্ডাস্ট্রি সূত্রে খবর, প্রযোজনা সংস্থার দায়ের করা মামলার পর্যবেক্ষণ করে ওই ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ছাড়পত্র দেওয়া জন্য সেন্সর বোর্ডকে যথাযথ সময় দেওয়া হয়নি। পালটা বিজয়কে ভর্ৎসনা করে প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, "আপনারা একটি মিথ্যে জরুরি অবস্থা তৈরি করে আদালতের উপর আদেশ দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করতে পারেন না। সেন্সরের কোনও সার্টিফিকেট ছাড়াই আপনারা কীভাবে সিনেমা রিলিজ করতে পারেন?”
কথা ছিল, ৯ জানুয়ারি থলপতি বিজয়ের শেষ সিনেমা ‘জন নয়াগন’-এর রিলিজ করবে। তবে বুধবার আচমকাই জানা যায়, শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছে না বিজয়ের বহু প্রতীক্ষিত ছবিটি। সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র না পাওয়ায় তাই মাদ্রাজ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নির্মাতারা। বুধবার আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, এই ছবি খতিয়ে দেখার জন্য নতুন কমিটি গঠন করতে হবে। ফলত সেসময়ে জানা যায়, অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে গিয়েছে থলপতির ‘জন নয়াগন’-এর মুক্তি। এদিকে সিনেমার রিলিজ পিছনোর নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আঁচ পেয়েছিলেন ওয়াকিবহালমহল। বিশ্লেষকদের মতে, সামনেই তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচন। যেখানে বিজয়ের দল টিভিকে-র সঙ্গে জোটের কথা ভাবছে কংগ্রেস। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তামিল তারকার দারুণ বন্ধুত্বও রয়েছে। জোট নিয়ে অভিনেতা সবুজ সংকেত দিয়ে ফেলেছেন বলেও শোনা যাচ্ছে। তবে বিজেপিও নাকি থলপতির সঙ্গে জোটে আগ্রহী ছিল। কিন্তু সেই সম্ভাবনা একেবারে নেই বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সেখান থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, তাহলে কি বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করে কংগ্রেসের দিকে ঝোঁকাটাই কাল হল বিজয়ের? কারণ প্রথমে কারুর পদপিষ্ট কাণ্ডে সিবিআই তলব, তারপর ছবি মুক্তিতে বাধা! যার নেপথ্যে জটিল রাজনৈতিক অঙ্কের আশঙ্কাই করেছিলেন ওয়াকিবহালমহল। তবে ৯ জানুয়ারি, ‘জন নয়াগন’-এর পূর্ব নির্ধারিত মুক্তির দিনেই প্রথমে মাদ্রাজ হাই কোর্টের তরফে সেন্সর বোর্ডকে ছাড়পত্র দেওয়া নির্দেশ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে থলপতি বিজয়ের ছবি মুক্তিতে স্থগিতাদেশ জারি করে আদালত।
