ব্যাটে রানের দেখা নেই। আত্মবিশ্বাস তলানিতে। ফাইনালে কি বসিয়ে দেওয়া হবে অভিষেক শর্মাকে? সেই নিয়ে সরগরম ছিল নেটপাড়া। কিন্তু একটা-দু'টো ভালো শটই অভিষেকের মতো ব্যাটারকে রানে ফিরিয়ে আনে। ফাইনালে হলও তাই। অভিষেক রানে ফিরলেন ঠিকই, তবে নিজের ব্যাটে নয়। অন্যের ব্যাট ধার করে। কার ব্যাট নিয়ে খেলে ফাইনালে হাফসেঞ্চুরি করলেন ভারতীয় ওপেনার।
ফাইনালের আগে পর্যন্ত রানখরা চলছিল। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে একটা হাফসেঞ্চুরি করেছেন বটে, কিন্তু সেটাও খুব একটা আত্মবিশ্বাসী ইনিংস ছিল না। সেমিফাইনালে মাত্র ৯ রান করেন তিনি। ফাইনালে অবশ্য দেখা মিলল চেনা অভিষেকেরই। অফ ফর্মের ফাঁড়া কাটাতে শিবম দুবের ব্যাট নিয়ে মাঠে নামেন তিনি। মাত্র ১৮ বলে হাফসেঞ্চুরি করেন অভিষেক শর্মা। চলতি বিশ্বকাপে এটাই দ্রুততম।
ম্যাচের পর অভিষেক বলেন, "দুবেকে ধন্যবাদ। ওর ব্যাট নিয়ে খেলে রান পেলাম। সকালে উঠে ভাবি, একটু অন্য কিছুর চেষ্টা করা যাক। শুভমান গিল তো এখানে নেই। তাই দুবের ব্যাট নিয়ে চলে আসি।" সেই সঙ্গে অভিষেক বলেন, "গত একমাস ধরে আমি এই সমস্যায় ভুগছি। তার আগে দেড় বছর স্বপ্নের ফর্মে ছিলাম। এই সময়ে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল আপনার সঙ্গ। তারা আমাকে সব সময় বলেছে, আমি রান পাব। আমি কখনও সতীর্থ বা কোচের কথায় ভরসা হারাইনি।"
ফাইনালে অভিষেক প্রথমে সাবধানী খেলছিলেন। জেকব ডাফির ওভারে দু’টো চার মারেন ঠিকই, তবে ততটাও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না। কিন্তু পরের ওভারে লকি ফার্গুসনের বলে সজোরে ছক্কা হাঁকাতেই যেন ব্যাটে আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে। তারপর আর ফিরে তাকাননি। ১৮ বলে হাফসেঞ্চুরি করেন। যখন ৫২ রানে ফেরেন তখন ভারতের ইনিংস শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে শিবম দুবে একা শেষ ওভারে তোলেন ২৪ রান। নিউজিল্যান্ডের বোলাররা স্লোয়ারে-কাটারে শেষবেলায় দুরন্ত কামব্যাকের সমস্ত পরিকল্পনা একা ভেস্তে দেন শিবম।
