কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের সচিব কয়েক দিন আগে দেশবাসীকে এই বলে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাস-সহ কোনও জ্বালানির দামই আপাতত বাড়বে না। দায়িত্বপূর্ণ পদে বসে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী কেন দেশবাসীর সঙ্গে এই ‘জুমলা’টি করেছিলেন, তার জবাব মিলবে কি না জানা নেই। পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোট মিটলেই যে কেন্দ্রীয় সরকার জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া করবে– এই আশঙ্কা ছিলই। সেটাই সত্য হল। কিন্তু ভোটের জন্য সাধারণ মানুষকে উচ্চপদস্থ আমলাকে দিয়ে ভুয়া আশ্বাস দেওয়া হল। ২৯ এপ্রিল রাজ্যে ভোট শেষ হয়েছে।
৩০ এপ্রিল মধ্যরাতেই বাণিজ্যিক গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাড়ানো হয়েছে অটোয় ব্যবহৃত গ্যাসের দাম। বেড়েছে আন্তর্জাতিক উড়ানের জ্বালানির দামও। গৃহস্থের ব্যবহৃত রান্নার গ্যাস এবং পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি সময়ের অপেক্ষা। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি সমানে দামবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়ে চলেছে। যে কোনও মুহূর্তে তারা এই দাম বৃদ্ধি করবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর থেকেই কার্যত পেট্রোল ও ডিজেলের দামবৃদ্ধির আশঙ্কা দানা বেঁধেছে। মাঝে একদফা গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা করে বেড়েছে। পেট্রোল ও ডিজেলের দামে হাত দেওয়া হয়নি।
কলকাতায় একটি ১৯ কেজি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বেড়ে ৩,২০২ টাকা হয়েছে। এত দাম দিয়ে গ্যাস কিনে ব্যবসা করা ছোট ছোট খাবার দোকানের পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
আসলে, ইরানের সাম্প্রতিক এই যুদ্ধের আগে পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম লাগাতার কমেছে। যে-সময় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কম ছিল, সে-সময় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি দেশের বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমায়নি। তখন কেন্দ্রীয় সরকার তেল সংস্থাগুলিকে দেদার মুনাফা করার অনুমতি দিয়েছে। এখন যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। ফলে, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির কিছু লোকসান হচ্ছে। সামান্য লোকসান হতেই সংস্থাগুলি খুচরো বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম অনেকটা করে বাড়িয়ে দিতে হাঁকপাঁক শুরু করেছে। বাণিজ্যিক গ্যাসের সিলিন্ডার যেভাবে একধাক্কায় সিলিন্ডার পিছু ৯৪৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে, তা উদ্বেগের। গত ফেব্রুয়ারি থেকে বাণিজ্যিক গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ছ’বার বাড়ানো হয়েছে। ছ’বারে এক-একটি সিলিন্ডারের দাম মোট ১,৫০২ টাকা করে বেড়েছে।
কলকাতায় একটি ১৯ কেজি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বেড়ে ৩,২০২ টাকা হয়েছে। এত দাম দিয়ে গ্যাস কিনে ব্যবসা করা ছোট ছোট খাবার দোকানের পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠেছে। বড় দোকানগুলি খাবারের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। গত দু’-মাসে অটোর গ্যাসের দাম লিটারে ৩২ টাকা বেড়ে যাওয়ায় সর্বত্র অটো ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ, ভোট শেষ হতেই সাধারণ মানুষের উপর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিল কেন্দ্রীয় সরকার। অর্থাৎ কেন্দ্রের শাসক দলের জুমলাবাজি একদম স্পষ্ট।
