ব্যস্ত সকালে জলখাবারের পাতে একটু ভিন্ন স্বাদ কার না ভালো লাগে? তবে স্বাদের সঙ্গে যদি স্বাস্থ্যের মেলবন্ধন ঘটে, তবে তো সোনায় সোহাগা! গত কয়েক বছরে তিলোত্তমার খাদ্যতালিকায় দক্ষিণী খাবারের রমরমা বেড়েছে। ইডলি, ধোসা বা বড়া এখন বাঙালির প্রাতরাশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে সাধারণ চাল-ডালের ধোসা কিংবা রাগির ধোসার একঘেয়েমি কাটাতে এবার আসরে নেমেছে কর্নাটকের বিশেষ ‘কাদালেকালু’ ধোসা। যা বর্তমানে কলকাতার স্বাস্থ্যসচেতন মহলে রীতিমতো সাড়া ফেলেছে।
কেন এই ধোসা আলাদা?
কাদালেকালু শব্দের আক্ষরিক অর্থ হল কালো ছোলা। সাধারণত ধোসা বলতে আমরা চাল ও বিউলির ডাল বাটা বুঝি। কিন্তু এই পদের প্রধান উপকরণ হল পুষ্টিগুণে ভরপুর কালো ছোলা। সাধারণ ধোসা ধবধবে সাদা হলেও, এই ধোসা দেখতে কিছুটা বাদামি রঙের হয়। স্বাদে যেমন মুচমুচে, তেমনই এর সুগন্ধও বেশ চমৎকার।
কাদালেকালু শব্দের আক্ষরিক অর্থ হল কালো ছোলা। ছবি: সংগৃহীত
পুষ্টিবিদদের মতে, কাদালেকালু ধোসা কেবল স্বাদের জন্য নয়, গুণের জন্যও সেরা। সাধারণ ধোসায় শর্করা বা কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি থাকে। অন্যদিকে, কালো ছোলা দিয়ে তৈরি এই পদে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও তন্তু বা ফাইবার থাকে। যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ওজন কমাতে যারা সচেষ্ট, তাঁদের জন্য এটি একটি আদর্শ বিকল্প।
এই খাবারের আদি উৎস কর্নাটকের গ্রামীণ অঞ্চল। সেখানে প্রচুর পরিমাণে কালো ছোলার চাষ হয়। কঠোর পরিশ্রমী কৃষকদের দীর্ঘক্ষণ শক্তির জোগান দিতে এই ধোসা ছিল তাঁদের প্রধান খাদ্য। কর্নাটকের সীমা ছাড়িয়ে এই পদ এখন অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ু হয়ে কলকাতার নামী রেস্তরাঁগুলোতেও জায়গা করে নিয়েছে।
কীভাবে রাঁধবেন?
রেস্তরাঁর স্বাদ বাড়িতে পেতে চাইলে মেনে চলুন এই সহজ পদ্ধতি।
উপকরণ: কালো ছোলা, আতপ চাল, সামান্য মেথিদানা, আদা এবং কাঁচালঙ্কা।
প্রস্তুতি: প্রথমে কালো ছোলা, চাল ও মেথি আলাদা করে অন্তত সাত-আট ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। এরপর জল ঝরিয়ে আদা ও কাঁচালঙ্কা মিশিয়ে মিহি করে বেটে নিন। মিশ্রণটি কয়েক ঘণ্টা ঢাকা দিয়ে রাখলে ভালো হয়।
দু’পিঠ লালচে ও মুচমুচে করে ভাজলেই তৈরি কাদালেকালু ধোসা। ছবি: সংগৃহীত
ভাজার নিয়ম: চাটু গরম করে সামান্য তেল বা ঘি মাখিয়ে নিন। ডালের হাতায় করে ব্যাটার দিয়ে পাতলা করে ছড়িয়ে দিন। দু’পিঠ লালচে ও মুচমুচে করে ভাজলেই তৈরি কাদালেকালু ধোসা।
গরম গরম এই ধোসা নারকেলের চাটনি বা সম্বর ডালের সঙ্গে পরিবেশন করলে জিভে জল আসতে বাধ্য। আগামী রবিবারের জলখাবারে পাতে রাখতেই পারেন কর্নাটকের এই সাবেকি স্বাদ।
