উত্তেজনার পারদ চড়ছে মুম্বইয়ে। মহারাষ্ট্রের সবথেকে বড় পুর কর্পরেশনের নির্বাচন সামনে। দল ভাঙা থেকে শুরু করে পর পর নির্বাচনে হারের ধাক্কা সামলে এবার শিবসেনার পাখির চোখ বিএমসি। সামনে প্রতিপক্ষ বিজেপি। বিএমসি দখলের লড়াই, ২০ বছর পরে কাছাকাছি এনেছে দুই ঠাকরে ভাইকে। এরপরেই নিজস্ব স্টাইলে বিজেপি-কে সরাসরি আক্রমণের পথে হাঁটছে এমএনএস নেতা রাজ ঠাকরে (Raj Thackeray)। মারাঠি অস্মিতাকে উসকে সরাসরি তিনি জানিয়ে দিয়েছেন 'হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া'র বিরুদ্ধে লড়াই চলবে। পাশাপাশি, বিজেপির তামিলনাড়ুর প্রধান কে আন্নামালাইকে 'রসমালাই' বলে আক্রমণ করেছেন তিনি।
বিএমসি নির্বাচনকে ক্রমাগত মারাঠি অস্মিতার লড়াইয়ে পরিণত করছে বিজেপি এবং শিবসেনা দুই শিবির। দুই দলই বার বার উল্লেখ করেছে পরবর্তী মেয়র হবেন মারাঠি। এবার সেই দাবিকেই আরও এগিয়ে নিয়ে গিয়ে, ক্রমাগত হিন্দির 'চাপিয়ে দেওয়া'র প্রসঙ্গে উত্তর প্রদেশ এবং বিহার থেকে আসা অভিবাসীদের প্রতি মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার প্রধান রাজ ঠাকরের এক স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন। রবিবার শিবসেনা (UBT) নেতা উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে মিলে একটি যৌথ সমাবেশে বৃহন্নুম্বাই পুর কর্পোরেশন নির্বাচনকে নিজেদেরকে মারাঠি পরিচয়ের শেষ রক্ষক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
হুশিয়ারি দিয়ে রাজ বলেন, "উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারের মানুষদের বুঝতে হবে যে হিন্দি আমাদের ভাষা নয়। আমি ভাষাটিকে ঘৃণা করি না। কিন্তু যদি তোমরা এটা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করো, তাহলে আমি তোমাদের লাথি মেরে বের করে দেব।"
এখানেই না থেমে মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস) প্রধান রাজ ঠাকরে বিজেপি নেতা কে আন্নামালাইকে 'রাসমালাই' বলে বিতর্কে জড়িয়েছেন। মহারাষ্ট্র প্রসঙ্গে আন্নামালাইয়ের তার বক্তব্য রাখার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাজ ঠাকরে। আন্নামালাইকে উপহাস করে ঠাকরে বলেন, "কয়েকদিন আগে, এক 'রাসমালাই' তামিলনাড়ু থেকে মুম্বইয়ে এসে বলেছে যে বম্বে মহারাষ্ট্রের শহর নয়। মুম্বই এবং মহারাষ্ট্রের মধ্যে কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি কে? মুম্বইয়ের সঙ্গে আপনার কী সম্পর্ক, এবং আপনি এখানে কেন এসেছেন? এই কারণেই বালাসাহেব বলেছিলেন 'সরাও লুঙ্গি বাজাও পুঙ্গি'।"
রাজ এবং উদ্ধব দু'জনেই মহারাষ্ট্রের স্বার্থকে ক্ষুণ্ন করে নিজেদের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অ্যাজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন বিজেপির বিরুদ্ধে।
রাজ ঠাকরের দাবি, বিএমসি দখলের লড়াই এখন আর শুধু মাত্র একটি নির্বাচন নয়। তাঁর দাবি, "তাঁরা সবদিক থেকে মহারাষ্ট্রে আসছে আর আমাদের ভাগ কেড়ে নিচ্ছে। যদি জমি আর ভাষা চলে যায়, আমরা তুমি শেষ হয়ে যাবো।" তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, "মারাঠি মানুষের জন্য এটাই শেষ নির্বাচন। আজ এই সুযোগ চলে গেলে আমরা শেষ হয়ে যাব। মহারাষ্ট্র এবং মারাঠিদের জন্য এক হতে হবে।"
দুই নেতাই মহারাষ্ট্রের স্বার্থকে ক্ষুণ্ন করে নিজেদের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অ্যাজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন বিজেপির বিরুদ্ধে। তিন ভাষা সূত্র নিয়ে বিতর্ক এবং প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত হিন্দি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবকে, বিজেপির বৃহত্তর অ্যাজেন্ডার অংশ বলেছেন রাজ। তিনি বলেন, "কোনও ভাষার বিরুদ্ধে কোনও ক্ষোভ নেই, কিন্তু তা চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে রয়েছে।"
