সাধারণতন্ত্র দিবসে নাশকতার ছক বানচাল। ঝাড়খণ্ডের সারেন্ডার জঙ্গলে নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে খতম মাওবাদী নেতা পাতিরাম মাঝি ওরফে অনল। মৃতের মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে আরও কয়েকজন মাও নেতা-নেত্রীর। জানা যাচ্ছে, প্রয়াত মাও নেতা হিদমার মতোই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন অনল।
মৃত পাতিরাম মাঝি।
কে এই পাতিরাম মাঝি ওরফে অনল? সিপিআই (মাওবাদী)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন অনল। বর্তমানে অনলের প্ল্যাটুনেই মাও বঙ্গ ব্রিগেড ঝাড়খন্ডে কাজ করতো। জানা গিয়েছে, সিপিআই (মাওবাদী)-র ইস্টার্ন রিজিওনাল এলাকায় থাকা পলিটব্যুরো সদস্য মিশির বেসরা ওরফে সুনির্মল ওরফে ভাস্কর, দুই কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নিহত পাতিরাম মাঝি ও বঙ্গ ব্রিগেডের দায়িত্বে থাকা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ ওরফে তিমির তাঁদের প্লাটুন নিয়ে সারেন্ডার জঙ্গলে জমায়েত করেছিলেন। সেই খবর পৌঁছে যায় ঝাড়খন্ড পুলিশের কাছে। তার জেরেই বৃহস্পতিবার ভোর থেকে অপারেশন শুরু করে ঝাড়খণ্ডের যৌথ বাহিনী।
সিপিআই (মাওবাদী)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন অনল। বর্তমানে অনলের প্ল্যাটুনেই মাও বঙ্গ ব্রিগেড ঝাড়খন্ডে কাজ করতো।
সেই অভিযানেই ঝাঁজরা হয়ে গেলেন সিপিআই (মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য-সহ ডজনখানেক মাও নেতা-নেত্রী। এই ইস্টার্ন রিজিওনাল ব্যুরোর সামরিক প্রধানের মৃতদেহর পাশ থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, গুলি, মাও পুস্তিকা। নিহত মাওবাদীদের মৃতদেহ ঝাড়খণ্ডের যৌথবাহিনী নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। তবে এদিন বিকেল পর্যন্ত অনল-সহ অন্যান্য মাওবাদী নেতা-নেত্রীর দেহ জঙ্গলেই পড়ে রয়েছে। যৌথবাহিনী প্রায় ৭০-৮০ জনকে ঘিরে রেখেছে। চলছে টানা গুলির লড়াই। ওই এলাকার গ্রামবাসীরা যাতে এই সংঘর্ষর মাঝে না পড়ে যান তাই জঙ্গলে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি জঙ্গল থেকে বেরনোর হওয়ার সমস্ত রাস্তায় চলছে নাকা তল্লাশি। প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে মাওবাদমুক্ত ভারত গড়ার বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এরপর থেকেই ছত্তিশগড়, ঝড়খণ্ডের মতো মাও অধ্যুষিত রাজ্যগুলিতে মাওবিরোধী অভিযান ব্যাপক গতি পেয়েছে। গত কয়েকমাসে মাসে মাওবাদী কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নিকেশ করেছে নিরাপত্তাবাহিনী।
