রবিবার সংসদে বাজেট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। সেই বাজেটে অনেকের পাতে 'মণ্ডা-মিঠাই' তুলে দেওয়া হলেও, কারও কারও পাতে নিতান্ত 'শাকভাজা'ও জুটল না। সেই তালিকায় অন্যতম নাম ইরানে ভারতের চাবাহার বন্দর। কৌশলগত দিক থেকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরে প্রথমবার শূন্য বরাদ্দ করল মোদি সরকার। আমেরিকা-ইরান সংঘাতের মাঝে ভারতের এই সিদ্ধান্ত নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
অতীতে চোখ রাখলে দেখা যাবে ইরানের মাটিতে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করে আসছে ভারত সরকার। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছিল দিল্লি। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজেট প্রাথমিক ভাবে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাড়িয়ে ৪০০ কোটি করা হয়। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে চাবাহার বন্দরের জন্য এক পয়সাও বরাদ্দ করল না কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। মনে করা হচ্ছে, এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে আমেরিকার কূটনৈতিক চাপ।
ইরান-সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য সংযোগের জন্য চাবাহারে বন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি কৌশলগত দিক থেকেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। যার জেরেই ইরানের সঙ্গে মিলে চাবাহার বন্দরের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে নয়াদিল্লি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাত চলছে আমেরিকার। ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যে দেশগুলি তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য করবে, তাদের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপাবেন তিনি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইরানের উপর আমেরিকা কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপালেও, ভারতকে চাবাহার প্রকল্পের জন্য ছয় মাসের ছাড় দেওয়া হয়। যা শেষ হচ্ছে চলতি মাসের ২৬ এপ্রিল। মনে করা হচ্ছে, এই পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে চাবাহারে বিনিয়োগ থেকে সরে এল ভারত।
উল্লেখ্য, ভারত ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছিল চাবাহার বন্দর। উভয় দেশই এই বন্দরকে 'ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোরের' (INSTC) জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে গড়ে তোলার চালাচ্ছে। পাকিস্তানকে ব্যাকফুটে ফেলে এই বন্দর আফগানিস্তান-সহ ওই অঞ্চলের একাধিক দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন চাপের মাঝে ভারতের চাবাহার বন্দরে বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়া কতখানি যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।
