Advertisement
'পাগল, বোকা, এপস্টেইনের বন্ধু', যুদ্ধের মাঝে ট্রাম্পকে নিয়ে মিমের বন্যা, নেটপাড়ায় 'জয়ী' ইরান
যুদ্ধের মধ্যে লাগাতার বেফাঁস মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। পরস্পরবিরোধী কথা বলেছেন। সেই মন্তব্যগুলিকেই হাতিয়ার করেছে ইরান।
ইরান বনাম আমেরিকা যুদ্ধ। গত একমাসেরও বেশি সময় ধরে গোটা বিশ্বের সবচেয়ে চর্চিত বিষয়। দুই দেশের সংঘাতের ফল ভুগেছে গোটা বিশ্ব। জ্বালানি সংকটে জেরবার হয়ে একের পর এক দেশে বেড়েছে তেল-গ্যাসের দাম।
মহাশক্তিধর আমেরিকার সামনে নতজানু হবে ইরান, এমনটাই ধরে নিয়েছিল আন্তর্জাতিক মহল। কিন্তু ৪০ দিন পেরিয়েও মার্কিন সমরশক্তিকে টক্কর দিয়েছে ইরানের 'কমদামি' অস্ত্রভাণ্ডার। শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রণাঙ্গনের বাইরে আরও একটা ময়দানকে কাজে লাগিয়েছে ইরান। সেটা হল সোশাল মিডিয়া। ওই ময়দানে ইরান একচেটিয়া জয় পেয়েছে বলেই অনেকে মনে করছেন। মিসাইল-বন্দুক নয়, স্রেফ বুদ্ধি খাটিয়ে সোশাল মিডিয়া ব্যবহারীকারীদের মন জিতেছে তেহরান।
যুদ্ধের আবহে বিশ্বের নানা দেশের ইরানি দূতাবাসের এক্স হ্যান্ডলগুলি সক্রিয় হয়ে ওঠে। ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টগুলি থেকেই একের পর এক মজার পোস্ট, মিম প্রকাশ হতে থাকে। সেগুলোর উদ্দেশ্য একটাই-মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কটাক্ষ করা।
আসলে যুদ্ধের মধ্যে লাগাতার বেফাঁস মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। পরস্পরবিরোধী কথা বলেছেন। আর সেই মন্তব্যগুলিকেই হাতিয়ার করেছে ইরান। ট্রাম্পের 'ব্যাঘ্রগর্জন'কে একেবারে কাগুজে বাঘের স্তরে নামিয়ে এনেছিল ইরানি দূতাবাসগুলি।
ইরানের এই পোস্টগুলি সমাজমাধ্যমে হু হু করে ভাইরাল হয়েছে। কোনও পোস্টে ট্রাম্পের কথার ভুল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনওটায় তাঁর মানসিক ভারসাম্যকে কটাক্ষ করা হয়েছে, আবার কোনও পোস্টে ট্রাম্পের কার্টুন দেখা গিয়েছে।
উদাহরণ হিসাবে উঠে আসে জিম্বাবোয়ের ইরানি দূতাবাসের একটি পোস্ট। সেখানে তুলে ধরা হয়েছে ট্রাম্প এবং ইরানের কথোপকথন। ট্রাম্প বলছেন, হরমুজ প্রণালী খুলে দিতেই হবে। ফাজলামি করে ইরানের জবাব, চাবিটা তো হারিয়ে গিয়েছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের যোগ উল্লেখ করে খোঁচা দিয়েছে বুলগেরিয়ার ইরানি দূতাবাস। হরমুজ প্রসঙ্গে তাদের মশকরা, 'হরমুজের দরজা আমাদের বন্ধুদের জন্য খোলা। কিন্তু এপস্টেইনের বন্ধুদের জন্য চাবি লাগবে।' কোথাও বা বলা হয়েছে, হরমুজের চাবি ফুলদানিতে লুকনো আছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টকে মানসিক রোগী বলতেও দ্বিধা করেনি ইরান। সভ্যতা ধ্বংসের ডেডলাইন বেঁধে দিয়ে ট্রাম্প যে পোস্ট করেছিলেন, সেটার জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকার ইরানি দূতাবাস মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর ৪ ধারার উল্লেখ করেছিল।
Published By: Anwesha AdhikaryPosted: 05:23 PM Apr 10, 2026Updated: 05:26 PM Apr 10, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
