Advertisement
৪০ লাখি শাড়ি থেকে ৩ হাজার কোটির মূর্তি! বিশ্বের কাছে ঈর্ষণীয় ভারতের এই সব 'অমূল্য রতন'
তালিকায় চা থেকে শাড়ি কী নেই! অবাক করে দেয় এই সব সম্পদের বিবরণ।
বরাবরই এই দেশের সম্পদ দেখে চোখ টাটিয়েছে গোটা বিশ্বের। সাম্রাজ্যবাদীরা বারে বারে এই দেশ লুঠ করতে হানা চালিয়েছে। আজকের বিশ্বেও ভারত এক সম্পদশালী দেশ। তার ভাণ্ডারে যেমন রয়েছে ১০০ কোটির ট্রেন, তেমনই রয়েছে ৪০ লাখের শাড়ি। এদেশে বল্লভভাই প্যাটেলের বিরাট উঁচু মূর্তি তৈরি করতে যা খরচ পড়েছে তাতে যে কারও চোখ ধাঁধাতে বাধ্য। দেখে নেওয়া যাক, ভারতের এই সব 'অমূল্য রতন'-এর তালিকা।
অসমের ডিব্রুগড়ের মনোরম টি এস্টেটের অত্যন্ত দুর্লভ ও বিলাসবহুল চা মনোহারী গোল্ড টি। যার সর্বোচ্চ মূল্য ১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা। ওই বিপুল দামেই প্রতি কেজি দরে নিলামে বিক্রি হয়ে বিশ্বরেকর্ড করেছে এই চা। এই উচ্চমানের সেকেন্ড ফ্লাশ চায়ে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে।
মুম্বইয়ের আল্টামাউন্ট রোডে অবস্থিত অ্যান্টিলাকে ঘিরে বিস্ময়ের অবধি নেই। ভারতের ধনীতম ব্যক্তি মুকেশ আম্বানির এই বাড়ি যেন সত্যিই এক অবিশ্বাস্য নির্মাণ। রিখটার স্কেলে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পও এই ২৭ তলা ভবনের কোনও ক্ষতি পারবে না। ৫৭০ ফুট উঁচু বাড়িটির ভিতরে রয়েছে এমন বিরাট গ্যারেজ, যেখানে ১৬৮টি গাড়ি রাখা যাবে! রয়েছে তিন-তিনটি হেলিপ্যাড। রয়েছে একটি ব্যক্তিগত থিয়েটার, ঝুলন্ত বাগান এমন কত কী! এর আনুমানিক মূল্য ১৫ হাজার কোটি টাকা।
এদেশের মহিলাদের শাড়ি-প্রীতি অবিশ্বাস্য। দাম নাগালের বাইরে থাকলেও তা কিনতে ঝাঁপিয়ে পড়েন অনেকেই। কিন্তু সেই শাড়ি যদি হয় বিবাহ পট্টু শাড়ি? স্রেফ অতি মূল্যের জন্য যা বিশ্বরেকর্ড গড়েছে! ২০১৮ সালে এই মূল্যবান শাড়ির নাম উঠে গিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। ২০০৯ সালে ৩৯,৩১,৬২৭ টাকায় বিক্রি হয়েছিল খাঁটি সিল্ক দিয়ে চেন্নাইয়ের কাঞ্চিপুরমে তৈরি একটি বিবাহ পট্টু! ঐতিহ্য ও শিল্পগুণের সমন্বয়েই এই শাড়ি এত মূল্যবান!
১৮৬৫ সালে বরোদার মহারাজা খাণ্ডে রাও গাইকোয়াড তৈরি করেছিলেন এক কার্পেট। রত্নখচিত সেই কার্পেট আজ ঠাঁই পেয়েছে কাতারের জাতীয় জাদুঘরে। অতীতে ভারতের সম্পদ কতটা সমৃদ্ধশালী ছিল তা এই তথ্য থেকেই বোঝা যায়। মদিনায় উপহার হিসেবে পাঠানোর জন্য নির্মিত হয়েছিল এই কার্পেট। এর মধ্যে রয়েছে ১৫ লক্ষাধিক বাসরার মুক্তো এবং মূল্যবান পাথর। হিরে, পান্না, নীলকান্ত মণি কী নেই! হরিণের চামড়া এবং রেশম দিয়ে তৈরি এই কার্পেটের দাম ৪৫ কোটি টাকা!
সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি উচ্চগতির বন্দে ভারত এক্সপ্রেস সেমি-হাই-স্পিড ট্রেন। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৮০ কিমি বেগেও চলতে পারে এই ট্রেন। স্লাইডিং ডোর, অটোমেটিক প্লাগ ডোর, সিসিটিভি ক্যামেরায় মোড়া এই ট্রেনের বর্তমান সংস্করণ আগের চেয়েও উন্নত। শোনা যায়, একেকটি ট্রেনের নির্মাণ খরচ প্রায় ১২০ থেকে ১৩০ কোটি টাকা।
৫ নভেম্বর, ২০১৩। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে PSLV-C25 রকেটের সাহায্যে মহাকাশে পাড়ি দেয় ইসরোর মঙ্গলগামী স্বপ্নযান। যার নাম মঙ্গলযান। প্রায় এক বছর পরে ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ তারিখে সেই যান মঙ্গলের কক্ষপথে প্রবেশ করতেই রচিত হয় এক অনন্য ইতিহাস। ভারতই বিশ্বের প্রথম দেশ, যারা মঙ্গলের কক্ষপথে ঢোকার প্রচেষ্টা করে প্রথমবারই সফল হল। এই গোটা অভিযানের খরচ পড়েছিল ৪৫০ কোটি টাকা! তবে এই খরচ শুনে যতই চোখ কপালে উঠুক, অঙ্ক হিসেবে তা যতই বিরাট হোক না কেন, বিশ্বের সবচেয়ে সাশ্রয়ী মঙ্গল অভিযান এটাই।
বলিউড তো বটেই, দক্ষিণ ভারতেও হালফিলে তৈরি হয়ে রীতিমতো বিগ বাজেটের ছবি। কিন্তু অন্যান্য ছবির বাজেটকে হেলায় টপকে গিয়েছে একটি ছবি। যার নাম 'কল্কি ২৮৯৮ এডি'। এর নির্মাণ খরচ আনুমানিক ৬০০- ৭০০ কোটি টাকা। তালিকায় এরপরই রয়েছে রাজামৌলির 'আরআরআর'। এই ছবির বাজেট ৫৫০ কোটি।
গুজরাটে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মূর্তি স্ট্যাচু অফ ইউনিটি। দেশের প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের এই মূর্তিটির উচ্চতা (৫৯৭ ফুট)। ২০১৮ সালে সর্দার প্যাটেলের ১৪৩তম জন্মবার্ষিকীতে এটির উদ্বোধন হয়েছিল। মূর্তিটি বানাতে খরচ পড়েছিল প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা!
গুজরাটের সুরাট ডায়মন্ড বার্স বিশ্বের বৃহত্তম অফিস ভবন। এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে সাড়ে চার হাজারের বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক হিরে ব্যবসায়ীদের অফিস। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উদ্বোধন করেন এই সুরাট ডায়মন্ড বার্সের। ৩৫.৫৪ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই প্রকল্পটি ৩,৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প! অঙ্ক শুনলে তাক লাগতে বাধ্য।
মুকেশ অম্বানির ছোট ছেলে অনন্ত আম্বানির সঙ্গে রাধিকার বিয়ে ঘিরে গোটা মুম্বই-ই যেন হয়ে উঠেছিল 'বিয়েবাড়ি'। মাসাধিক কাল ধরে চলতে থাকা এই বিয়েতে তারকা সমাগম ছিল সংবাদের শিরোনামে। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টের দাবি, এই বিয়েতে খরচ হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা! যদিও তা আম্বানি পরিবারের মোট সম্পদের মাত্র ০.০৫ শতাংশ।
Published By: Biswadip DeyPosted: 03:44 PM Jan 24, 2026Updated: 03:44 PM Jan 24, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
