Advertisement
অর্ডার দিলেই গোপনে বাড়িতে সেক্স টয়! বিরাট 'ব্যবসা' ফেঁদে বিপাকে বাঙালি যুবক, আপনি সাবধান তো?
গোপনে সেক্স টয় ডেলিভারি...! অর্ডার দেন হাজার হাজার মানুষ।
সোশাল মিডিয়ায় আড়ালে আবডালে বিজ্ঞাপন। নিষিদ্ধ সাইটে চোখ রাখলেই অর্ডার দেওয়ার প্রলোভন। কিন্তু অর্ডার দেওয়ার পর কী? সত্যিই কি ঘরে বসে পাওয়া যায় সেক্স টয়? নাকি বিজ্ঞাপনের আড়ালে কাজ করছে কোনও বিরাট চক্র?
সোশাল মিডিয়া ও গোয়ার বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট বিজ্ঞাপন। যাতে বলা ছিল অনলাইনে অর্ডার করলেই মিলবে পছন্দসই সেক্স টয়। শুধু মিলবে না, সোজা নির্ধারিত ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া হবে ওই 'আদর খেলনা।' সবটাই করা হবে সম্পূর্ণ গোপনে। কাকপক্ষীও টের পাবে না।
গোয়ার হোটেলগুলিতে আলাদা করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। আসলে মূলত পর্যটকরাই টার্গেট কাস্টমার হিসাবে দেখছিলেন ওই সেক্স টয়ের দোকানের মালিকরা। আসলে গোয়ায় এমনিতেই আমোদপ্রমোদের উদ্দেশেই যান পর্যটকরা। বেড়াতে গিয়ে 'নিষিদ্ধ কাজের' প্রবণতাও বেশি দেখা যায়।
বহু পর্যটক এমনকী স্থানীয়রাও নিষিদ্ধ উন্মত্ততায় মেতে উঠতে অর্ডার দিয়েছিলেন ওই আদর খেলনার। অনলাইনে নিষিদ্ধ ওয়েবসাইটে গিয়ে মিটিয়েছিলেন দামও। দামের পরিমাণটাও বেশ চড়া। আসলে ভারতের মতো দেশে সেক্স টয় গোপনে ডেলিভারি দেওয়াটা যে দুষ্কর, সেটা ভালোই বুঝতেন খদ্দেররা।
তাছাড়া প্রতিটি প্রোডাক্টের নিচে দারুন রিভিউ থাকত। আকর্ষণীয়ভাবে লেখা থাকত ব্যবহার করার পদ্ধতি। যৌন চাহিদা মেটানোর লোভে দামের কথা ভাবতেন না কেউ।
কিন্তু হায়! অর্ডার দেওয়ার পরই সব উধাও। যে ওয়েবসাইট থেকে সেক্স টয় অর্ডার দেওয়া হয়েছিল সেই ওয়েবসাইটটাই উধাও। বাড়িতে ডেলিভারি তো দূর, কোনওরকম যোগাযোগ করারই উপায় নেই।
বছর খানেক আগে গোয়ায় বিরাট এক সেক্স টয় প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস করেছে গোয়া পুলিশ। তাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন এই বাংলার এক যুবক। তাঁর একাধিক সঙ্গীও গ্রেপ্তার হয়েছেন।
জানা গিয়েছে, কলকাতায় বসে শুভেন্দুকুমার দাস নামের এক বছর সাইত্রিশের যুবক পুরো প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিলেন। তিনিই ওই সেক্স টয় বিক্রির জন্য ভুয়ো ওয়েবসাইট বানান। ডিজাইন করেন।
সেখানে 'খদ্দের'রা গিয়ে সেক্স টয় বুক করলেই ইউআরএল ব্লক করে দিতেন। ফলে খদ্দের আর তাঁর হদিশও পেত না। শুধু টাকাটা ঢুকে যেত অ্যাকাউন্টে।
বেশ কিছুদিন দিব্যি চলছিল। বহু মানুষ টাকা দিয়ে প্রতারিত হচ্ছিলেন। সমস্যা হল প্রতারিত হচ্ছেন, এটা বুঝতেই অনেকটা সময় লেগে যায় প্রতারিতদের। আরও সমস্যার হল প্রতারিত হওয়ার পরও কেউ পুলিশের কাছে যেতে পারেছেন না বা কাউকে বলতে পারছেন না স্রেফ লোকলজ্জার ভয়ে। ফলে দীর্ঘদিন কেউ অভিযোগ দায়ের না করায় পুলিশেরও অগোচরে ছিল বিষয়টা।
কিন্তু বিষয়টা বেশিদিন চাপা থাকেনি। জনা কয়েক গোয়া পুলিশের কাছে গিয়ে ওই প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করে দেয়। তড়িঘড়ি তদন্তে নেমে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের। দেখা যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শ'য়ে শ'য়ে মানুষ প্রতারিত হয়েছেন। সাইবার পুলিশ তদন্তে নেমে সন্ধান পান মাস্টারমাইন্ড শুভেন্দুকুমার দাসের। কলকাতায় বসেই পুরো প্রতারণা চালাচ্ছিল সে। তাঁর ল্যাপটপেই মেলে যাবতীয় কেলেঙ্কারির তথ্য। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে এই গোটা চক্রের পর্দাফাঁস হয়।
Published By: Subhajit MandalPosted: 05:20 PM Jan 24, 2026Updated: 05:26 PM Jan 24, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
