Advertisement
বিয়ের আগেই যৌন মিলন, চাইলেই বিচ্ছেদ! দেশের এই উপজাতির মধ্যে বহু বছর চলছে লিভ-ইন প্রথা
সভ্যতা তার নিজের মতো করে আধুনিকতার সংজ্ঞা তৈরি করে। কিন্তু অনেক সময়ই দেখা যায় অতীতের বুকের ভিতরে জেগে আছে সেই আধুনিকতার অভিজ্ঞান। সত্যজিৎ রায়ের 'আগন্তুক' ছবির শেষদিকে সভ্য আর অসভ্য নিয়ে নানা কথা ছিল। তথাকথিত প্রান্তিক মানুষ, অরণ্যচারীদের জীবনেও যে 'হোলি ওয়েড লক' রয়েছে তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন উৎপল দত্ত অভিনীত 'মনমোহন মিত্র' চরিত্রটি। একই ভাবে লিভ-ইন সম্পর্কের চলও কিন্তু আগে থেকেই রয়েছে এদেশের আদিবাসীদের মধ্যে। রাজস্থান ও গুজরাটের একাংশে বসবাসকারী সেই আদিবাসীরা গারাসিয়া সম্প্রদায়ের।
গারাসিয়া শব্দটি 'গিরাস' থেকে এসেছে। যার অর্থ জায়গির বা শাসকের দেওয়া গ্রাম। নিজেদের রাজপুত বংশোদ্ভূত বলে দাবি করে এই উপজাতির মানুষেরা।
তাদের প্রধান উৎসবের মধ্যে রয়েছে 'গৌর মেলা'। রঙিন পোশাক ও অলঙ্কার পরতে পছন্দ করে এই উপজাতি। নৃত্য ও লোকসঙ্গীতের নিজস্ব ধারা রয়েছে তাদের মধ্যে।
গারাসিয়াদের মধ্যে বেছে নেওয়ার স্বাধীনতাকে বিরাট গুরুত্ব দেওয়া হয়। আর তা সঙ্গী বা সঙ্গিনী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে। বিশেষ করে মহিলাদের। এক অভিনব দু'দিন ব্যাপী 'সিয়াভা মেলা'য় তারা বেছে নিতে পারে পছন্দের পুরুষ। এখানেই শেষ নয়। এই নির্বাচন কিন্তু স্থায়ী নাও হতে পারে। অর্থাৎ বিয়ের প্রয়োজন নেই। একসঙ্গে লিভ-ইন করতে পারবে তারা। পাঁচশো বছর ধরে এই প্রথা চালু রয়েছে।
কী হয় এই মেলায়? জানা যায়, উপজাতির সদস্য কিশোর-কিশোরীরা একত্রিত হলে সেখানেই চোখে চোখে 'নির্বাচন' সম্পন্ন হয়ে যায়। আর অনেক সময়ই যুগলেরা পালিয়ে গিয়ে একসঙ্গে বসবাস শুরু করে। এরপর তারা গ্রামে ফিরে এসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিয়ের আগেই যৌন মিলন সেই সমাজে একটি স্বাভাবিক ঘটনা।
ধরা যাক, কারও একজন সঙ্গী রয়েছে। এই অবস্থাতেও সেই কিশোরী মেলায় গিয়ে আরও একজন সঙ্গীকে বেছে নিতে পারে। অনেকক্ষেত্রে তারা বিয়ের আগেই মা-ও হয়ে যায়। এবং এরপর তারা চাইলে বিয়ে নাও করতে পারে।
এও দেখা যায়, অনেক সময় যুগল সিদ্ধান্ত নেয় সকলকে ভোজ দেওয়ার মতো সঙ্গতি না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না করার। ফলে দেখা যায় লিভ-ইন শুরু করার পর কেটে যায় কয়েক বছর। তারপরে বিয়ে করে সেই যুগল। অর্থাৎ সন্তানরাও যোগ দেয় মা-বাবার বিয়ের পঙক্তিভোজে।
আশ্চর্যের বিষয় হল রাজস্থান দীর্ঘকাল ধরেই পিতৃতান্ত্রিক রীতিনীতির ভারে জর্জরিত! বাল্যবিবাহ থেকে শুরু করে শিক্ষা ও সুযোগের ক্ষেত্রে অসাম্যের মতো নানা অভিযোগ রয়েছে। লিঙ্গ অসাম্যের এই রাজ্যেই উজ্জ্বল ব্যতিক্রম গারাসিয়া সম্প্রদায়!
গারাসিয়া উপজাতির এই প্রথা মনে করিয়ে দেয়, আমাদের সমাজের মূল স্রোত ও তথাকথিত অগ্রসর শ্রেণিও এই প্রথা থেকে শিক্ষা নিতে পারে। নিজের সঙ্গী বাছাইয়ের স্বাধীনতা ও নিঃসীম ভালোবাসায় ডুব দেওয়ার বার্তা দেয় তারা।
কেবল সঙ্গী বেছে নেওয়াই নয়, মহিলারা চাইলে সঙ্গীর সঙ্গে বিচ্ছিন্নও হয়ে যেতে পারেন। অসুখী সম্পর্কে ইতি টানতে নাতা প্রথা পালিত হয়। এই প্রথার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয় আলাদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া। এই সময় নতুন বর 'দাপা' অর্থাৎ আর্থিক সাহায্য করেন পুরনো বরকে। অর্থাৎ অনিচ্ছুক হয়ে কোনও সম্পর্ক টানার দায় কারওই থাকে না।
Published By: Biswadip DeyPosted: 05:16 PM Jan 28, 2026Updated: 06:30 PM Jan 28, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
