Advertisement
পরস্পরকে গুরুত্ব, সমাজমাধ্যমে আদিখ্যেতা নয়, বিরুষ্কার এসব গুণই নীরবে দেয় সুখী দাম্পত্যের পাঠ
আমজনতার কাছে তাঁরা পাওয়ার কাপল। তবে বিরুষ্কা মাঝে মাঝেই বেস্ট ফ্রেন্ডের মতো খুনসুটিতে মেতে ওঠেন।
আমজনতার কাছে তাঁরা পাওয়ার কাপল। একসঙ্গে তাঁদের দেখে ভালোবাসার মানে খুঁজে পান অনেকে। দুই সুপারস্টার নিজেদের খ্যাতি সামলেও একে অপরের পাশে সবসময়ে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। আট বছর ধরে সুখী দাম্পত্যের আদর্শ উদাহরণ হয়ে উঠেছেন বিরুষ্কা।
কিন্তু বর্তমান যুগে যেখানে ডিভোর্স-বিচ্ছেদ একেবারে নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে উঠেছে, প্রায় প্রত্যেক ঘরে ঘরে বিয়ের বন্ধন ভেঙে খান খান হয়ে যাচ্ছে, তার মধ্যেও কী করে টিকে রয়েছে বিরাট কোহলি এবং অনুষ্কা শর্মার সুখী দাম্পত্য? কোন সিক্রেটে আজও একে অপরের ভালোবাসায় বুঁদ হয়ে রয়েছেন তারকা দম্পতি?
বিরুষ্কার সুখী সংসার থেকে অন্তত আটটি সিক্রেট শিখতে পারেন অন্য দম্পতিরা। দীর্ঘদিন ধরে হাজারো ঝড় সামলে কীভাবে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা যায়, একে অপরের সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা হয়ে ওঠে যায়-এগুলো পাঠ নেওয়া যায় বিরুষ্কার থেকে।
বিরুষ্কার বিয়ের পর কেটে গিয়েছে আট বছর। সেই দাম্পত্যের প্রধান স্তম্ভ হল গোপনীয়তা। বিয়ের আগে নিজেদের সম্পর্ক সেভাবে জাহির করে বেড়াননি। সোশাল মিডিয়ায় আজকাল অনেকেই সর্বক্ষণ সঙ্গীর ছবি, সঙ্গীর দেওয়া উপহার ইত্যাদির ছবি পোস্ট করতে থাকেন। কিন্তু বিরুষ্কার সোশাল মিডিয়ায় সেই 'মাখোমাখো' ব্যাপারটা তুলনামূলকভাবে বেশ কম।
বিরুষ্কার সোশাল মিডিয়ায় পোস্টের সংখ্যা অনেক। কিন্তু আর পাঁচটা তারকা যুগলের থেকে বেশ আলাদা তাঁদের পোস্টের ধরণ। বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায়, অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গি করে মজার ছবি বা ভিডিও পোস্ট করছেন বিরুষ্কা। সেই দেখে যেমন তাঁদের ভক্তদের মুখে হাসি ফোটে, তেমনই আনন্দের ছোঁয়া লাগে ফ্রেমবন্দি হওয়া বিরাট-অনুষ্কার মনেও।
বিরুষ্কার সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারত তাঁদের প্রবল ব্যস্ততা। একজন জাতীয় দলের ক্রিকেটার, অন্য়জন বলিউডের প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই নিজেদের কেরিয়ারে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করেছেন বিরুষ্কা। কখনও বিরাটের বিদেশ সফরে সঙ্গী হয়েছেন অনুষ্কা, কখনও বা খেলার মাঝে ছোট্ট বিরতি পেলেও স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন বিরাট। ব্যস্ততা সামলে কীভাবে জীবনসঙ্গীকে সময় দেওয়া যায় সেটা আদর্শ উদাহরণ হয়ে উঠেছেন দু'জনে।
একে অপরের সঙ্গে যতই খুনসুটি করুন না কেন, তাঁরা দু'জনেই অপরজনকে সম্মান করেন। বিমানবন্দর, খেলার মাঠ, কোনও অনুষ্ঠান-সর্বত্রই বিরাট এবং অনুষ্কা একে অপরকে মর্যাদা দেন। যেকোনও সম্পর্কে এই পারস্পরিক সম্মান থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। ভালোবাসা মানেই কাউকে অসম্মান করার অধিকার জন্মায় না। আট বছর ধরে বিরুষ্কা এই পাঠ দিয়ে আসছেন।
বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে গেলে একে অপরের বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে ওঠা খুবই জরুরি। বিরাট-অনুষ্কার খুনসুটি দেখে বোঝাই যায়, ভালোবাসার পাশাপাশি তাঁদের বন্ধুত্বও অটুট। সবসময় রোম্যান্টিক মুহূর্ত তৈরিই নয়, কখনও বন্ধুর মতো পাশে থাকলেও অনেক বেশি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। যেকোনও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে গেলে এই স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা অত্যন্ত জরুরি।
প্রবল সমালোচনার মধ্যেও জীবনসঙ্গীর পাশে ঢালের মতো থাকা-বিরুষ্কার সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বিরাটের খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য অসংখ্যবার দায়ী করা হয়েছে অনুষ্কাকে। আর প্রত্যেকবারই নিজের জীবনসঙ্গীর পাশে দাঁড়িয়ে সমালোচকদের একহাত নিয়েছেন বিরাট। আবার বিরাটের কেরিয়ারের অন্ধকারতম সময়ে সোশাল মিডিয়ায় বারবার স্বামীর হয়ে পোস্ট করেছেন অনুষ্কা। সঙ্গী কঠিন সময়ে পাশে থাকলে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।
কেবল সমালোচনার সময়েই নয়, একে অপরের সাফল্যেও সঙ্গীর পাশে থাকাটা খুব জরুরি। মাঠে নেমে বিরাট যখন খেলেন, ট্রফি জেতেন, তখন গ্যালারিতে অনুষ্কাকেও দেখা যায় উচ্ছ্বসিত মুখে। মাঠে নেমে এসে বিরাটকে জড়িয়ে ধরছেন অনুষ্কা, সেই দৃশ্য দেখে মন ভরে যায় ক্রিকেটপ্রেমীদের। সাফল্য ভাগ করে নিয়েই দীর্ঘ আট বছর ধরে সুখে শান্তিতে সংসার করছেন বিরুষ্কা।
আলাদা মানসিকতা থাকলেও সেসব দূরত্ব মিটিয়ে সহমত হওয়াটা অত্যন্ত জরুরি। একটা সময়ে আগ্রাসনের প্রতীক হিসাবে বিরাটকে দেখত আমজনতা। ধর্মীয় আচার থেকেও শতহস্ত দূরে থাকতেন। কিন্তু বিয়ের আট বছর পর বিরাট আজ বাড়িতে পুজো করেন। ছুটে যান প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে। অন্যদিকে অনুষ্কা একটা সময়ে বলিউডের সেরা অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে রুপোলি পর্দায় তাঁকে দেখাই যায় না। একে অপরের জন্য বহু কিছু বদলে ফেলে সহমত হয়ে উঠলেই মিটে যায় দাম্পত্যের বহু সমস্যা।
Published By: Anwesha AdhikaryPosted: 05:05 PM Jan 30, 2026Updated: 05:24 PM Jan 30, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
