যত সময় যাচ্ছে এআই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠছে। নিত্য সমস্যার সমাধানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তারই দ্বারস্থ হন বহু মানুষ। যার মধ্যে রয়েছে শারীরিক সমস্যাও! ডাক্তারদের কাছে ফোন না করে অনেকেই মেসেজ করছেন চ্যাটজিপিটিকে। কিন্তু এই প্রবণতা কতটা সঠিক? সাম্প্রতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে সেই দিকটাই।
২০২৬ সালের এপ্রিলে হওয়া ওই গবেষণার কথা জানা যাচ্ছে প্রযুক্তি সংক্রান্ত এক ওয়েবসাইটে। ‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন’-এ প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে জটিল রোগ নির্ণয় সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনায় ওপেনএআইয়ের ‘০১’ মডেলটির নির্ভুলতার হার ছিল ৭৮ শতাংশ। এমনকী, এও দেখা যাচ্ছে, জরুরি বিভাগের রোগীদের ক্ষেত্রেও বহু সময়ই রীতিমতো অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের টেক্কা দিয়েছে চ্যাটজিপিটি। সেই সঙ্গেই ২০২৪ সালের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, জটিল রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের চেয়েও অধিকতর পারদর্শিতা প্রদর্শন করেছে চ্যাটজিপিটি। বিশেষ করে জ্বরগ্রস্ত শিশুদের এত বেশি তথ্য এআইয়ের হাতে থাকে যে, এ বিষয়ে একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তার রয়েছে। তবে এরপর কী করণীয় তা নিয়ে আলোচনায় তাঁর উপরে ভরসা করা ঝুঁকিপূর্ণ।
আসলে সঠিক রোগ নির্ণয় করা চিকিৎসার কেবল অর্ধেক। বাকি অর্ধেক হল—এ বিষয়ে কী করণীয় তা স্থির করা। ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্ড্রু পার্সনস জানাচ্ছেন, এই বিষয়ে ডাক্তারদের উপরই ভরসা করতে হবে। কেননা রোগনির্ণয় কেবলই চিকিৎসার একটি অংশ মাত্র। এরপর চিকিৎসা, পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে আসা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পক্ষে সম্ভব নয়। আসলে চিকিৎসার ক্ষেত্রে মূল দিকটি হল- সমস্ত বিকল্পের মধ্যে থেকে কোনটি নির্দিষ্ট কোনও রোগের ক্ষেত্রে সঠিক, তা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ঠিক করা। ফলে এক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটির দ্বারা চিকিৎসা করাতে চাওয়া চূড়ান্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
