১২ বাংলাদেশিকে ভারতে অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা বিজিবির! এই নিয়ে নদিয়ার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে তীব্র চাপানউতোর। উত্তেজনার পারদ চড়েছে নদিয়ার হোগলবেড়িয়া থানার রানিনগর সীমান্তে। বিজিবি-র দাবি, তাঁরা ভারতীয়, এদেশে ফিরিয়ে নিতে হবে! যদিও সেই কথা মানতে নারাজ বিএসএফ। বিএসএফের পালটা দাবি, ওই ১২ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। এই আবহে শুক্র ও শনিবার পরপর দু'দিন বিএসএফ-বিজিবির মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিং হয়। সেখানে কোনও রফাসূত্র মেলেনি বলে খবর।
বিজিবি ও বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া গ্রামবাসীদের অভিযোগ, শুক্রবার ভোরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কাঁটাতারের গেট খুলে ওই ১২ জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠায়। সেই নিয়ে শুরু হয় জোর চর্চা। শুক্রবার বিকেলে দুই দেশের সীমান্ত বাহিনীর প্রথম দফার বৈঠক হয়। যদিও সেখানে কোনও আশার আলো দেখা যায়নি। ভারতের রানিনগর ও বাংলাদেশের প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস পিলারের কাছে মাথাভাঙা নদীর তীরে জিরো পয়েন্টে ছিলেন ওই ১২ জন! রাতে সীমান্ত লাগোয়া একটি গ্রামে তাঁদের খাবার ও রাতে থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল।
গতকাল, শনিবার দুপুরে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে দ্বিতীয় দফায় বৈঠক হয়। সেখানে বিজিবির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ওই ১২ জন (৪ জন মহিলা, ৪ জন শিশু ও ৪ জন পুরুষ) আদতে ভারতীয় নাগরিক। তাই বিএসএফ-কে তাঁদের ভারতে ফিরিয়ে নিতে হবে। বিএসএফ তাঁদের 'পুশ ইন' করাচ্ছে বলে অভিযোগ। যদিও ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর তরফে সেই অভিযোগ মানা হয়নি। ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করানো হচ্ছে বলে পালটা অভিযোগ তোলা হয়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সমস্ত অভিযোগ ও দাবি খারিজ করে দেয় বিএসএফ। ওই বৈঠকও ব্যর্থ হয়েছে।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর স্পষ্ট বার্তা, রানিনগর সীমান্ত দিয়ে গত কয়েক দিনে কাউকেই বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়নি। ফলে কাউকে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের খাতিরে এবং প্রতিবেশী দেশের আপত্তির কথা মাথায় রেখে বিএসএফ জানিয়েছে, বিজিবির দাবিটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। নির্দেশ অনুযায়ী, পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
