শান্তনু কর, জলপাইগুড়ি: হাড় কাঁপানো শীতে পাহাড়ি জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। কখনও কাকভোরে, কখনও আবার মধ্যরাতে তার রাজকীয় চলন ধরা পড়েছে ট্র্যাপ ক্যামেরায়। একবার-দুবার নয়, একাধিকবার। বনদপ্তরের তথ্য বলছে, গত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে নেওড়া ভ্যালির জঙ্গলে সাতবার ধরা দিয়েছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। সাম্প্রতিক সময়ে যা রেকর্ড। তাই একাধিকবার ক্যামেরাবন্দি এই বাঘের ছবি একটি বাঘেরই নাকি সংখ্যায় তারা একাধিক জানতে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে বলে গরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের বনাধিকারিক দ্বিজো প্রতীম সেন জানিয়েছেন।
‘বাঘ আছে নেওড়ায়’! নয়ের দশক থেকে এই দাবি জানান গরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের নেওড়া ভ্যালি জাতীয় উদ্যানে কর্তব্যরত বনকর্মীরা। সমতল থেকে এগারো হাজার ফুট উঁচু পাহাড়ি এই জঙ্গল এতটাই দুর্গম যে একে আমাজনের জঙ্গলের সঙ্গেও তুলনা টানা হয়। স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছর পরেও ১৫৯.৮৯ বর্গ কিলোমিটার পাহাড়ি জঙ্গলের এমন কিছু প্রান্ত রয়েছে যেখানে মানুষের ছায়া পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি। এই জঙ্গলে কোন কোন প্রাণী, পতঙ্গ, উদ্ভিদ রয়েছে তার তালিকাও এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণ করে উঠতে পারেনি বন দফতর। তবে রয়্যাল বেঙ্গলের অস্তিত্বের কথা বনকর্মীরা দাবি করলেও ২০১৭ সালের আগে পর্যন্ত সেই অর্থে কোনও তথ্য প্রমাণ হাজির করতে পারেনি বনদপ্তর।
[আরও পড়ুন: দুবাইয়ে গ্রেপ্তার মহাদেব কাণ্ডের ‘মাস্টারমাইন্ড’, ফেরানো হবে ভারতে]
২০১৭ সালের ১৯ জানুয়ারি ভোরে লাভা থেকে সামান্য দূরে পেদংয়ের রাস্তায় নিজের মোবাইল ক্যামেরায় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি বন্দি করে বনমহলে চাঞ্চল্য ফেলে দেন আনমোল ছেত্রী নামে এক স্থানীয় যুবক। পাহাড়ি এই জঙ্গলে আরও বাঘের অস্তিত্ব খুঁজে পেতে দুদিনের মধ্যে চারটি ট্র্যাপ ক্যামেরা বসায় বনদপ্তর। তাতে ওই বছর ২৩ জানুয়ারি প্রথম সরকারি খাতায় নজরবন্দি হয় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। এর পর ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ৫ জানুয়ারি ২০১৮ এবং ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি বাঘ বন্দি হয় ট্র্যাপ ক্যামেরায়। মাঝে এক বছর দেখা না দিলেও ২০২২ সালের ২৮ অক্টোবর এবং এই বছর ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসেও ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা দেয় দক্ষিণরায়।
গত কয়েক বছর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ প্রমাণ মিলিয়ে দেখে বনদপ্তর এক প্রকার নিশ্চিত ভালো সংখ্যায় বাঘ রয়েছে এই বনে। তাই বাঘ সংরক্ষণে গুরুত্ব বাড়াতে পাহাড়ি এই জঙ্গলকে যাতে প্রজেক্ট টাইগারে যুক্ত করা হয় তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও শুরু হয়েছে। গরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের বনাধিকারিক দ্বিজো প্রতীম সেন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এক্ষেত্রে যা যা করণীয় করা হচ্ছে। সম্প্রতি জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার একটি দল নেওড়া ভ্যালির জঙ্গলে সমীক্ষা চালায়। তারাও বাঘের অস্তিত্বের কথা উল্লেখ করেছে। এই পরিস্থিতিতে জঙ্গলের নজরদারি এবং নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হচ্ছে বলে বনাধিকারিক জানিয়েছেন।
