উত্তরপাড়ার নির্বাচনী সভা থেকে ফের একবার বিজেপিকে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একযোগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আক্রমণ করেন তিনি। অমিত শাহকে মোটা ভাই বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, "নন্দীগ্রামে সিআরপিএফকে ভোট লুট করতে পাঠিয়েছিলেন, তাঁকে নিয়ে মিটিং করে বলেছে ভোট স্লো করে দাও। যাতে মানুষ ভোট দিতে না পারে। আমার ভবানীপুরে দায়িত্ব দিয়েছে। আমার বয়েই গেছে। তোরা কাঁচকলা করবি আমার।" পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, ভবানীপুরে বহিরাগত ঢুকিয়েছে বিজেপি। গতকালও বাসে করে লোক আনা হয়েছে।
মমতার আরও দাবি, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে আজ শনিবার বিজেপির ৫০ টা হেলিকপ্টার আকাশে উড়ছে। কিন্তু তৃণমূল তিনটেও জোগার করতে হিমশিম খাচ্ছে। অন্নপূর্ণ ভান্ডারের ফর্ম বিলি নিয়ে কটাক্ষ করেন তিনি। ভোটের পরে বাঁকুড়া, জঙ্গলমহলে ফর্মগুলি "গড়াগড়ি খাচ্ছে" খাচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। মমতার দাবি, বিহারের লোকজন বাংলার মানুষকে সতর্ক করে বলছে, তাঁরা যে ভুল করেছে তা যেন বাংলার মানুষ না করেন। ওঁদের সব ফেরত দিতে হচ্ছে। বুলজোজার দিয়ে উড়িয়ে দিচ্ছে।
ভোটের পর ফের পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হবে বলে দাবি করেন মমতা। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, কৃষকদের আত্মহত্যা বাড়ছে। শ্রমিকদের রোজগার নেই। পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে হিন্দুদের গীতা ছুঁয়ে আর মুসলিমদের কোরান ছুঁয়ে বিজেপিকে ভোট দিতে বলেছে। বিনাপয়সা নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলায় এনে ২০০০ টাকার স্লিপ ধরিয়ে দিয়েছে। বিজেপিকে 'হানাদার', 'হল্লা বাহিনী' বলেও তোপ দাগেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, "ও মন্ত্রী মশাই, ষড়যন্ত্রী মশাই, থেমে থাক। চালাকি আর ভেলকি চলবে না।"
প্রথম দফায় বেশি ভোটদানের জন্য এসআইআর ও এনআরসির আতঙ্ককে দায়ী করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা জানান, তিনি জগন্নাথ মন্দির করেছিলেন বলে এই 'শয়তানগুলোট কেস করেছিল। বিজেপিকে ফের একবার বাঙালি-বিরোধী দল বলে তোপ দাগেন। ফের একবার মনেত করিয়ে দেন মহাকাল মন্দিরে ভারতের সবথেকে বড় শিব স্থাপিত হবে।
