ইনস্টাগ্রাম তাদের মেসেজিং পরিষেবায় এক বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। আগামী ৮ মে থেকে ইনস্টাগ্রামে বন্ধ হতে চলেছে ডিফল্ট 'এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন' ব্যবস্থা। মেটার এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে দানা বেঁধেছে গভীর উদ্বেগ। মেসেজ আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে যে নিরাপত্তার বর্ম এতদিন কাজ করত, তা সরে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠছে— তবে কি এখন থেকে হ্যাকাররা সহজেই আপনার ব্যক্তিগত চ্যাট পড়ে ফেলবে?
ফাইল ছবি
দীর্ঘদিন ধরেই মেটা তাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সুরক্ষার স্বার্থে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন প্রযুক্তির ওপর জোর দিয়ে এসেছে। এর ফলে প্রেরক এবং প্রাপক ছাড়া তৃতীয় কেউ, এমনকী খোদ কোম্পানিও সেই বার্তা পড়তে পারত না। কিন্তু নতুন এই আপডেটের পর সেই সুরক্ষাকবচ আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর থাকবে না। মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশেষ কারিগরি কারণে এবং ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় বদল আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে কি সাধারণ মানুষের গোপনীয়তা সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত হবে? বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, বিষয়টি ততটাও আশঙ্কাজনক নয়। এনক্রিপশন বন্ধ হওয়া মানেই এই নয় যে হ্যাকারদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হল। ইনস্টাগ্রামের নিজস্ব সার্ভার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের মতোই বজায় থাকবে। তবে মেটা চাইলে আইনি প্রয়োজনে বা নীতি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে চ্যাটের বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখার সুযোগ পেতে পারে। সাধারণ সাইবার হানা রুখতে তাদের পরিকাঠামো আগের মতোই কঠোর থাকবে বলে দাবি করা হয়েছে।
ফাইল ছবি
হ্যাকারের ভয় কতটা? সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এনক্রিপশন না থাকা মানে ডেটা ট্রান্সফারের সময় তা সাধারণ টেক্সট হিসেবে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে মেটা তাদের অ্যাপের অভ্যন্তরে অন্য স্তরের নিরাপত্তা বজায় রাখবে। ব্যবহারকারীদের জন্য পরামর্শ হল, অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য বা আর্থিক লেনদেনের কথা ইনস্টাগ্রাম ডিএম-এ সরাসরি না বলাই ভালো।
এই বদলটি মূলত সাধারণ ব্যবহারকারীদের মেসেজিং ফিচারে প্রভাব ফেলবে। মে মাসের ৮ তারিখের পর থেকে ব্যবহারকারীরা তাঁদের চ্যাট সেটিংসে গিয়ে ম্যানুয়ালি সুরক্ষার স্তর পরিবর্তন করার সুযোগ পেতে পারেন। মেটার এই পদক্ষেপটি কেন নেওয়া হল, তা নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা বনাম কোম্পানির নীতি— এই দ্বন্দ্বে আগামী দিনে ইনস্টাগ্রামের জনপ্রিয়তা কতটা অটুট থাকে, সেটাই এখন দেখার।
