বিহারে এবার বদলের হাওয়া। গত বছরের শেষে নির্বাচনে বিজেপি-জেডিইউ জোটের সামনে ধুলিস্যাৎ হয়ে গিয়েছে আরজেডি। এবার নতুন করে দল সাজাচ্ছেন লালু যাদব। ক্ষমতার কেন্দ্রে আসছেন ছেলে তেজস্বী যাদব।
জানা গিয়েছে, বিহার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদবকে রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) কার্যকরী সভাপতি নিযুক্ত করা হতে পারে। জানা গিয়েছে, শারিরিক অসুস্থতার কারনে দলের শীর্ষপদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন দলের প্রধান লালু প্রসাদ যাদব। ২৫ জানুয়ারি হতে চলেছে আরজেডি-র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তেজস্বীকে দলের প্রধান করার বিশ্যে সর্বসম্মতি রয়েছে দলের অন্দরে। আসন্ন বৈঠকে তাঁকে আরও বৃহত্তর সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, রাজ্য এবং জাতীয় পর্যায়ে সিনিয়র নেতাদের নতুন দায়িত্ব দেওয়া-সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
গত বছরের শেষে নির্বাচন হয় বিহারে। এই নির্বাচনে, কার্যত নিশ্চিহ্ন হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছে যায় আরজেডি। নির্বাচনে পরাজয়ের পিছনে দলেরই বেশ কিছু লোকের হাত রয়েছে বলে সন্দেহ উপর মহলের। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও এই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
চিকিৎসকরা লালু প্রসাদকে বিশ্রাম নেওয়ার এবং মানসিক চাপ এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। সেই কারণেই নিজের পুরন বাসভবন ছেড়ে নতুন বাড়িতে সরে গিয়েছেন তিনি। সাম্প্রতিক অতীতে তাঁকে সক্রিয় রাজনীতিতে খুব বেশি দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে, দলীয় নেতারা মনে করছেন, সংগঠনকে সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য একজন কার্যকরী সভাপতি নিয়োগ জরুরি।
বেশ কিছুকাল ধরেই দলের সাংগঠনিক সব সিদ্ধান্তই নিয়েছেন তেজস্বী নিজে। কিন্তু, আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি দলের সভাপতি পদে না থাকায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত জনসভা থেকে ঘোষণা করতে পারছেন না। দলের সদস্যদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়ে যাওয়ায় দ্রুত সিদ্ধান্ত ঘোষণা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, লালু প্রসাদ যাদব চান দলের দায়িত্ব হস্তান্তর হোক আনুষ্ঠানিকভাবে। লালু প্রসাদ গত ২৮ বছর ধরে আরজেডির জাতীয় সভাপতির পদে রয়েছেন। তিনি প্রথমবার ১৯৯৭ সালের ৫ জুলাই এই পদে নির্বাচিত হন। ২০২৫ সালের জুন মাসে, তিনি ১৩তম বারের জন্য দলের জাতীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। আরজেডি প্রতি তিন বছর অন্তর তার জাতীয় সভাপতি নির্বাচন করে।
