সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় ঢুকে সে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে অপহরণ এবং বন্দি করেছে আমেরিকা। তা নিয়ে ইতিমধ্যেই দু'বার কড়া বিবৃতি দিয়েছে চিন। এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরাসরি মুখ খুললেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ করে আমেরিকা যে গুন্ডামি করেছে, তা গত ১০০ বছরেও দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করলেন তিনি।
চিন-ভেনেজুয়েলার মজবুত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সর্বজনবিদিত। বিশ্বের বৃহত্তম তেলভান্ডার ভেনেজুয়েলায় রয়েছে। সেই দেশ থেকেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে তেল কেনে বেজিং। ঘটনাচক্রে, ভেনেজুয়েলার সেই খনিজ তেলের ভান্ডারের দিকেই যে আমেরিকার নজর, তা গোপন করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্টও। জিনপিং বলেন, "গোটা বিশ্ব এখন একটা পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। গত এক শতকেও এমন অস্থিরতা দেখা যায়নি। এমন একতরফা আচরণ এবং গুন্ডামিতে আন্তর্জাতিক স্থিতাবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে।"
চিনা সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন জিনপিং। সেই বৈঠকের পরেই ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। বলেন, "প্রতিটি দেশেরই উচিত অন্য দেশের উন্নয়নের পথকে সমর্থন করা। আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রসংঘের সদনের উদ্দেশ্য এবং নীতি মেনে চলা। বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলির উচিত এই বিষয়টি নিশ্চিত করা।"
প্রসঙ্গত, মাদুরোকে অপহরণ এবং বন্দি করা নিয়ে শনিবার রাতেই প্রথম মুখ খুলেছিল চিন। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেছিলেন, ‘‘আমেরিকার এমন আধিপত্যবাদ আন্তর্জাতিক আইন, ভেনেজ়ুয়েলার সার্বভৌমত্ব এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান প্রদেশের নিরাপত্তা লঙ্ঘনকারী। চিন কঠোর ভাবে এর বিরোধিতা করছে। আমেরিকা আমেরিকার কাছে আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ মেনে চলার দাবি জানাচ্ছি। অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা লঙ্ঘন করা বন্ধ করো।’’ তার কয়েক ঘণ্টা পরেই আসে দ্বিতীয় বিবৃতি। চিনা বিদেশ মন্ত্রক বলে, "প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে আমেরিকাকে। অবিলম্বে তাঁদের মুক্তি দিতে হবে। ভেনেজ়ুয়েলার সরকার ভেঙে দেওয়া চলবে না। আলোচনা এবং সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যাগুলির সমাধান করতে হবে।"
