সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রুশ তেল কেনা কমিয়ে আনা হচ্ছে জানিয়ে আমেরিকার কাছে শুল্ক কমানোর অনুরোধ করছে ভারত। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে এমনই দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম।
ঘটনাচক্রে, লিন্ডসের এই বয়ানের ঠিক আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে কিছু মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, "প্রধানমন্ত্রী মোদি খুব ভালো মানুষ। তিনি জানতেন আমি খুশি নই। আমাকে খুশি করা জরুরি।" শুধু তা-ই নয়, প্রয়োজনে ভারতীয় পণ্যে আরও শুল্ক বাড়ানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন 'ট্রাম্প। গ্রাহামের মন্তব্যের পরেই মোদিকে বিঁধতে শুরু করেছে কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, আসলে ট্রাম্পকে খুশি করতেই দীর্ঘদিনের বন্ধু রাশিয়ার থেকে তেল কেনা কমাচ্ছে ভারত।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিক বৈঠকে গ্রাহাম জানান, গত মাসেই ভারতের রাষ্ট্রদূত বিনয়মোহন কাতরার সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। সেনেটরের দাবি, ভারত যে রাশিয়ার থেকে তেল কেনা কমাচ্ছে, এই বার্তা যেন তিনি ট্রাম্পের কাছে পৌঁছে দেন। গ্রাহামের কথায়, "গত মাসে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের বাড়ি গিয়েছিলাম। উনি আমায় বলতে চাইছিলেন যে, ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কেনা কমিয়ে আনছে। উনি চাইছিলেন, আমি যাতে এই কথাটা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলি এবং উনি যাতে শুল্ক ২৫ শতাংশ কমান।"
প্রসঙ্গত, শুল্ক নিয়ে ভারত-আমেরিকার আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় গত বছর ভারতীয় পণ্যে প্রথমে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। পরে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক এবং জরিমানা আরোপ করা হয়। ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছিলেন, ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কেনে বলেই চড়া হারে শুল্ক চাপানো হয়েছে। তার পর থেকেই ভারত এবং আমেরিকার সম্পর্কের অবনতি হয়। যদিও শুল্ক নিয়ে দু'দেশের মধ্যে আলোচনা জারি রয়েছে। সেই আবহে ট্রাম্প এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সেনেটরের এই মন্তব্যে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, শুল্ক আলোচনা কি নয়াদিল্লির পক্ষে এগোচ্ছে না? প্রসঙ্গত, গত বছর ডিসেম্বরে দু'দিনের ভারত সফরে এসেছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৈঠকও করেছিলেন মোদির সঙ্গে। সূত্রের দাবি, সেই বৈঠকে রুশ তেল নিয়ে আলোচনা হয়েছিল দু'জনের।
