সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির কৃতিত্বের দাবি করেছে চিন। এক অনুষ্ঠানে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই দাবি করেন, গত মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া সামরিক উত্তেজনায় মধ্যস্থতা করেছে তারা। এবার সেই দাবিতে সিলমোহর দিল পাকিস্তান। পাকিস্তান একে 'শান্তির জন্য কূটনীতি' এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে বর্ণনা করেছে। যদিও, এখানেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মহলে। কিছুদিন আগেই একই দাবি করে আমেরিকা। সেই দাবিকেও সমর্থন করে পাকিস্তান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, অপারেশন সিঁদুরে নিজেদের পরাজয় ঢাকতেই বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে চলেছে পাক প্রশাসন।
পাক বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, "পাক এবং ভারতের সঙ্গে টানা যোগাযোগ রেখেছিল চিন। ৬ থেকে ১০ মে পর্যন্ত তিন-চার দিনে এবং সম্ভবত তার আগে এবং পরে ভারতীয় নেতৃত্বের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে তাঁরা।" তিনি আরও বলেন, "আমি মনে করি, অত্যন্ত ইতিবাচক কূটনৈতিক আলচনা এই অঞ্চলে সমস্যা কমাতে এবং শান্তি ও নিরাপত্তা আনতে অবদান রেখেছে।
যদিও, শুরু থেকেই ভারতের দাবি, ভারত-পাক সংঘর্ষ বিরতিতে কোনও তৃতীয় ব্যক্তির ভূমিকা নেই। সম্প্রতি বেজিংয়ে আন্তর্জাতিক নীতি সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, "শান্তি প্রতিষ্ঠার সেই লক্ষে চিন উত্তর মায়ানমার, ইরানের পরমাণু ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, প্যালেস্টাইন-ইজরায়েল যুদ্ধ, কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ডের পাশাপাশি ভারত-পাকিস্তানের সংঘর্ষ থামাতেও মধ্যস্থতা করেছে।" ভারত-পাক যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে চিনের এহেন দাবি সামনে আসতেই বিতর্ক চরম আকার নিয়েছে।
শুরু থেকে ভারত দাবি করে এসেছে ভারত-পাক যুদ্ধবিরতিতে তৃতীয় পক্ষের কোনও ভূমিকা নেই। পাকিস্তান সেনার ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) ভারতের ডিজিএমওকে ফোন করে যুদ্ধ থামানোর অনুরোধ করেন। সেই ডাকে সাড়া দিয়েই যুদ্ধ থামায় ভারত। এমনকী খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বারবার যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব নিতে চাইলেও ভারত স্পষ্ট ভাষায় ট্রাম্পের সে দাবি খারিজ করে দেয়। এবার চিনের এই দাবি নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
