সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে উত্তাল ইরান (Iran)। রাজধানী তেহরানের সীমা ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়ছে। রাস্তায় নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকায় বসে তেহরানের রাজপথ দখলের আহ্বান করলেন সে দেশের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি (প্রাক্তন শাসক রেজা শাহ পাহলভির পুত্র)।
শুক্রবারের বিক্ষোভে বিপুল মানুষের সমাগম দেখে আপ্লুত পাহলভি। ইরানের ক্ষুব্ধ জনতার কাছে তাঁর অনুরোধ, শনি এবং রবিবারেও যেন একই ভাবে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ হয়। পাহলভির বার্তা, "এখন শুধু রাস্তা নামাই আমাদের কাজ নয়। এবার শহরের মধ্যমণি দখল করতে হবে।"
গত দেড় সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলছে ইরানে। গত ২৭ ডিসেম্বর তেহরানে দোকানদারেরা দেশে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। তা-ই ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশে। পরিণত হয়েছে খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলন-বিক্ষোভ। অনেকের মত, গত কয়েক বছরে বেশ কয়েক বার ক্ষোভ-বিক্ষোভের মুখে পড়েছে খামেনেইয়ের সরকার। কিন্তু এ বারের মতো নয়। এই বিক্ষোভ-আন্দোলনের সঙ্গে ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের মিলও খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। সেই সূত্রেই প্রশ্ন, খামেনেইয়ের পতন কি সময়ের অপেক্ষা?
আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ থেকে বিরত থাকার বার্তা দিয়েছে ইরানের সেনা। তারা জানিয়েছে, দেশের সরকারি সম্পত্তি এবং কৌশলগত পরিকাঠামো তাদের রক্ষা করতেই হবে। পাশাপাশিই শত্রুপক্ষের উসকানিতে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরানীয় সেনাও।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার ইসফাহান শহরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং’ (আইআরআইবি) ভবনে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর বান্দার আব্বাসের রাস্তায় নামেন হাজার হাজার মানুষ। বিদ্রোহ দমনে খামতি রাখছে না সরকারও। এখনও পর্যন্ত যা তথ্য মিলেছে, তাতে অন্তত ৪২ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বাচ্চাও রয়েছে। ২২৭০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলি জানিয়েছে, এই সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে এবং সরকার সেই তথ্য কিছুতেই বাইরে আসতে দেবে না।
ইরানের খামেনেই সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের উপর হামলা হলে আমেরিকা চুপ করে বসে থাকবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পকে পালটা জবাব দিয়েছে খামেনেইয়ের সরকারও। এই পরিস্থিতিতে জল্পনা, ট্রাম্পের সাহায্য নিয়েই কি ইরানের মসনদ দখলের পরিকল্পনা করছেন পাহলভি? যদিও এখনই পাহলভির সঙ্গে এ বিষয়ে কোনও কথা হয়নি বলেই জানিয়েছেন ট্রাম্প।
