সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে প্রয়োজনে সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে বলে আগে থেকেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সেই মতো মার্কিন সেনার বিশেষ বাহিনীকে হামলার ছক কষে রাখারও নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে থাকা গ্রিনল্যান্ডে হামলা চালাতে নারাজ সেনা আধিকারিকদের একাংশ।
সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেল মার্কিন প্রশাসনের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সেনার 'জয়েন্ট স্পেশাল অপারেশনে কমান্ড'কে সামরিক অভিযানের সমস্ত পরিকল্পনা সেরে রাখতে বলেছেন ট্রাম্প। কিন্তু মার্কিন সেনার জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফেরা প্রেসিডেন্টের এই নির্দেশের কার্যত বিরোধিতাই করেছেন। তাঁদের যুক্তি, এ ভাবে গ্রিনল্যান্ডে হামলা চালানো বৈআইনি এবং মার্কিন কংগ্রেসও হামলার সিদ্ধান্তকে কখনও সমর্থন করবে না।
সংবাদমাধ্যমকে ওই সূত্র বলেছে, "ডোনাল্ড ট্রাম্প অনেক দিন ধরেই গ্রিনল্যান্ডে হামলা চালানোর কথা ভাবছেন। কিন্তু সেনা আধিকারিকেরা তা আটকাতে বারবার প্রেসিডেন্টের দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করছেন। কখনও তাঁকে আটলান্টিক মহাসাগরে রুশ জাহাজের আনাগোনার কথা বলা হচ্ছে। কখনও ইরানে হামলার চালানোর জন্য বলা হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে।" ওই সূত্রেরই দাবি, ট্রাম্পের রাজনৈতিক উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারই গ্রিনল্যান্ডে হামলা আক্রমণ করতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সেনা অপহরণ ও বন্দি করার পর থেকেই গ্রিনল্যান্ডের দিকে তাঁর নজর পড়েছে। তাঁর আশঙ্কা, আমেরিকা শীঘ্রই পদক্ষেপ না করলে রাশিয়া-চিন কিছু করে ফেলবে!
ট্রাম্পও একই ভাবেই গ্রিনল্যান্ড দখলে আগ্রহী বলে সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেলের কাছে দাবি করেছেন এক ব্রিটিশ কূটনীতিক। তাঁর যুক্তি, মূল্যবৃদ্ধির জেরে আমেরিকার মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছেন। তাঁদের নজর ঘোরাতেই কখনও ভেনেজুয়েলা, কখনও গ্রিনল্যান্ড, আবার কখনও ইরানে হামলা চালানোর কথা ভাবছেন। চলতি বছরের শেষেই আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন (মিডটার্ম ইলেকশন) হওয়ার কথা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের আশঙ্কা, দেশের অর্থনীতিতে যে মন্দা চলছে, তা সরাসরি প্রভাব ভোটে পড়তে পারে। স্বাভাবিক ভাবেই তার সুবিধা পাবে ডেমোক্র্যাটরা। এতে মার্কিন কংগ্রেস তাদের দখলে চলে যেতে পারে। তাই এখনই বড় কিছু করতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
