সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: উত্তেজনা চলছিল গত কয়েকমাস ধরেই। শনিবার সকালে যাবতীয় আশঙ্কাকে সত্যি করে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার অভিযোগ তুলেছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আসলে মাদক কারবারিদের সর্দার। তবে বিশেষজ্ঞদের দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান আসলে আমেরিকার অজুহাত। আসলে ট্রাম্পের নজর বিশ্বের অন্যতম বড় তৈলখনির দিকে। জেনে নেওয়া যাক, কেন হঠাৎ ট্রাম্পের রোষানলে পড়ে আগুন জ্বলে উঠল লাতিন আমেরিকায়? এবং কেন এই যুদ্ধ গোটা বিশ্বের কাছে উদ্বেগের?
ভেনেজুয়েলার তরফে জানা গিয়েছে, শনিবার ভোররাতে রাজধানী কারাকাস-সহ মিরান্ডা, আরাগুয়া এবং লা গুয়াইরা অঞ্চলে বোমা হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। ভেনেজুয়েলার অভিযোগ, এই হামলা আসলে মার্কিন আগ্রাসনের একটি ঘৃণ্য উদাহরণ। এদের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ সম্পদ দখল করা। এই হামলার পর হোয়াইট হাউসের তরফে স্পষ্টভাবে কিছুই জানানো হয়নি। আমেরিকার অন্দরেও এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ডেমোক্র্যাট সেনেটর ব্রায়ান শ্যাটজ বলেন, "এই হামলার চালানোর জন্য পর্যাপ্ত কারণ এখনও আমাদের কাছে নেই। এখনই আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত এবং এই ধরনের বোকা বোকা সামরিক অভিযানে না জড়ানো উচিত।" ভেনেজুয়েলায় ঠিক কী ঘটছে তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা আমেরিকাবাসীর সামনে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন শ্যাটজ।
গত কয়েকমাসের ঘটনা পরম্পরার দিকে যদি চোখ রাখা যায় তাহলে দেখা যাবে, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ তোলেন ট্রাম্প। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে সেনা মোতায়েন করা হয়। এরপর মাদক পাচারের অভিযোগ তুলে ভেনেজুয়েলার নৌকাগুলিকে নিশানায় মার্কিন ফৌজ। গত মাসে ভেনেজুয়েলা এবং তার আশেপাশের অঞ্চলের আকাশসীমা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলায় তেল ট্যাঙ্কার চলাচলে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। মাদক পাচারের অভিযোগের পাশাপাশি ২০২৪ সালে নির্বাচনে জিতে প্রেসিডেন্ট হওয়া মাদুরোকে স্বীকৃতি দেয়নি আমেরিকা। ট্রাম্প অভিযোগ তোলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণ দুর্দশাগ্রস্ত এবং সেখানে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। আপাতদৃষ্টিতে গণতন্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ বলে আমেরিকা দাবি করলেও বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই নেপথ্যে রয়েছে বিরাট রাজনৈতিক কৌশল ও বিরাট খনিজ সম্পদে থাবা বসানোর গভীর ষড়যন্ত্র।
আসলে বিশ্বের বৃহত্তম খনিজ তেলের ভাণ্ডার হল ভেনিজুয়েলা। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে দৈনিক প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হয়। ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার পরেও এর উৎপাদন চমকে দেওয়া মতো। এখানে তেলের মজুত রয়েছে ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল যা সৌদি আরবের চেয়েও বেশি। স্বাভাবিকভাবেই আমেরিকার লোভাতুর নজর রয়েছে এই দেশে। রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আমেরিকা নিজেদের জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ভেনেজুয়েলায় নিজেদের পছন্দের লোক চান ট্রাম্প।
কিন্তু বামপন্থী নেতা মাদুরো আমেরিকার অঙ্গুলিহেলনে হাঁটার লোক নন। ক্ষমতায় আসার পরই চিন এবং রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান তিনি। এই ঘটনা আমেরিকার জন্য সিঁদুরে মেঘ। অভিযোগ, ভেনেজুয়েলার সম্পদ কুক্ষিগত করার লক্ষ্যেই আসলে এই হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। ভেনেজুয়েলার তরফেও দাবি করা হয়েছে, লক্ষ্য যদি মাদক বন্ধ হয়, তাহলে তেলের ট্যাঙ্কারগুলিকে কেন টার্গেট করছে আমেরিকা? এগুলি ধ্বংস করার একটাই উদ্দেশ্য ভেনেজুয়েলার আয়ের সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে আর্থিকভাবে দেশটিকে আমেরিকার পায়ের তলায় নিয়ে আসা। এবং সেখানে মার্কিন সমর্থিত সরকার বসানো।
