রাজকুমার, আলিপুরদুয়ার: রংয়ের উৎসবে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে বিশেষ সতর্কতা। শিকার রুখতে নিরাপত্তার বন্দোবস্ত। পুলিশ কুকুর দিয়ে চলছে টহল। জঙ্গলে প্রবেশের ক্ষেত্রেও বনদপ্তরের তরফে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
জঙ্গল লাগোয়া এলাকার বাসিন্দাদের হোলিতে শিকারের রীতি রয়েছে। সেই রীতি মেনে অনেকেই জঙ্গলে ঢুকে বন্যপ্রাণ শিকার করে। আর তার পর মাংস রান্না করে খাওয়াদাওয়া করেন। আর এই উৎসবে জঙ্গলের শিকার ঠেকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ। জঙ্গলের ভিতরে ও বাইরে সর্বত্র প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে চলছে জোর তল্লাশি। হ্যান্ড মাইক নিয়েও চলছে প্রচার। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের এডিএফও নবজিৎ দে জানান, “দোলে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে শিকার রুখতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
[আরও পড়ুন: ‘দেবের নির্দেশে বিজেপি কর্মী খুন’, মৃতের মায়ের সামনে বিস্ফোরক দাবি হিরণের]
বলে রাখা ভালো, প্রায় ২১৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই বনাঞ্চলের প্রায় অর্ধেক এলাকায় গণ্ডারের বসবাসের পরিবেশ রয়েছে। জলদাপাড়ায় একশৃঙ্গ গণ্ডারের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। গত বছরের শেষ সুমারি অনুযায়ী, সেখানে ২৯২টি গণ্ডার পাওয়া গিয়েছিল। যার মধ্যে ১০১টি ছিল পুরুষ ও ১৩৪টি স্ত্রী গণ্ডার। তবে বাকি ৫৭টি গণ্ডার স্ত্রী না পুরুষ তা অবশ্য সেই সুমারিতে স্পষ্ট করা হয়নি। এই জাতীয় উদ্যানে গণ্ডারের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে শুরু করায় খুশি প্রায় সকলেই। তাই গণ্ডারের বিচরণভূমিও বাড়ানো হচ্ছে। গণ্ডার বৃদ্ধির সাথে সাথেই চোরাশিকারিদের দাপট রুখতেও তৎপর বনদপ্তর। ইতিমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আগের তুলনায় অনেকটাই পাচার কমানো সম্ভবও হয়েছে বলেও দাবি কর্তৃপক্ষের। তবে আপাতত দোলের দিন শিকার রোখাই বড় চ্যালেঞ্জ জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষের।
