সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এতটা একপেশে অ্যাশেজ শেষ কবে দেখা গিয়েছিল, মনে করতে পারছেন না ক্রিকেটপ্রেমীরা। বাজবলের অহংকারকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ১-৪ ব্যবধানে দুরমুশ হয়েছে ইংল্যান্ড। এই হারেই সম্ভবত ইংল্যান্ডের 'বাজবল' জমানার সমাপ্তিতে সিলমোহর পড়ে গেল। কিংবদন্তি ইংরেজ ক্রিকেটার তো সরাসরি কোচ ব্রেন্ডন ম্যাকালাম এবং ক্যাপ্টেন বেন স্টোকসের (Ben Stokes) অপসারণ চেয়েছেন। যদিও ম্যাচ পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে নেতৃত্ব প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলেন তিনি।
স্টোকস বলেন, "অসাধারণ একটা ম্যাচ ছিল। কোনও ম্যাচ পাঁচ দিন পর্যন্ত গড়ালে সেখানে নাটকীয়তা তৈরি হবেই। আমরা ২০০ রানের কাছাকাছি পৌঁছলে গল্পটা অন্যরকম হতে পারত। অস্ট্রেলিয়া দুর্দান্ত দল। অনবদ্য খেলেছে ওরা। অসাধারণ বোলাররাও রয়েছে। ওদের কৃতিত্ব তো দিতেই হবে।" স্টোকসের সংযোজন, "যা খেলেছি তার থেকে আরও ভালো খেলতে পারতাম। পরবর্তী সিরিজের আগে হাতে অনেক সময় রয়েছে। আমাদের ভুলত্রুটিগুলো শুধরে নেওয়ার সময় এসেছে। আশা করছি, নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নিতে পারব।"
পঞ্চম দিন সকালে নামার আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ড ৮ উইকেট খুইয়ে তুলেছিল ৩০২ রান। লিড ছিল ১১৯ রানের। পঞ্চম দিন টেস্ট বাঁচাতে বা জেতার জন্য বড় কোনও মিরক্যালের অপেক্ষায় ছিলেন ইংরেজ সমর্থকরা। যে কাজটা করতে পারতেন জ্যাকব বেথেল। চতুর্থ দিনের শেষে ১৪২ রান অপরাজিত ছিলেন। কিন্তু একার লড়াই আর কতক্ষণ! তিনি এদিন সকালেই ব্যক্তিগত ১৫৪ রানে আউট হয়ে যান তিনি। ইংল্যান্ড অল আউট হয়ে যায় ৩৪২ রানে। পঞ্চম টেস্ট জয়ের জন্য অজিদের টার্গেট ছিল মাত্র ১৬১। সেই টার্গেটে পৌঁছতে অস্ট্রেলিয়া সময় নিল মাত্র ৩১ ওভার ২ বল। কার্যত পালটা বাজবল খেলে অনায়াসে পাঁচ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। ট্র্যাভিস হেড (২৯), জ্যেক ওয়েদারল্যাড (৩৪), লাবুশানে (৩৭) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। উল্লেখ্য, এই নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টানা চারটি অ্যাশেজ সিরিজ হারল ইংল্যান্ড। গত ১৫ বছরে অস্ট্রেলিয়ায় মাত্র একটি টেস্ট জিতেছে তারা। শেষবার ইংল্যান্ড অ্যাশেজ জিতেছিল ২০১৫ সালে।
সূত্রের দাবি, ম্যাকালামকে বলে দেওয়া হয়েছে, অ্যাশেজের জন্য দল যে ঠিকমতো প্রস্তুত ছিল না সেটা স্পষ্ট। সেটার দায় তাঁকে নিতে হবে। তাছাড়া দল যেভাবে খেলছে, তাতেও খুশি নয় ইসিবি। এমনকী দলের অন্দরের পরিবেশও ভালো না। এই পরিস্থিতি দ্রুত না বদলালে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শোনা যাচ্ছে, ড্রেসিংরুমেও অনেকে ম্যাকালামের উপর আস্থা হারাচ্ছেন। এখানেই শেষ নয়, শোনা যাচ্ছে, অধিনায়ক স্টোকসের কাছেও জবাবদিহি চাওয়া হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ড ম্যানেজমেন্টকে তুলোধোনা করেছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার জিওফ্রে বয়কট।
কিংবদন্তি ক্রিকেটারের সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন ম্যাকালাম, স্টোকস এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর রব কি-র উপর। তাঁর কথায়, "এই তিনজন হলেন ইংল্যান্ড ক্রিকেটের সবচেয়ে জ্ঞানী। ম্যাকালাম, স্টোকস এবং রব বছরের পর বছর ধরে মিথ্যা বিক্রি করে এসেছেন। ওরা জানিয়েছিল, অ্যাশেজের জন্য পরিকল্পনা তৈরি রয়েছে। কিন্তু চোখের সামনে ফলাফল। ইংল্যান্ড হারল ১-৪ ব্যবধানে। ম্যাকালামের দর্শন ভয়ডরহীন ক্রিকেট। সেখানে আউট হলে দোষ নেই। কাউকে কিছু বলারও নেই। লোকজন এই বাজবলে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই এই পরিণতির জন্য দায়ী। তিন জনকে না সরালে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।"
