'আমি দিনে প্রায় ৩৫টা সাপ্লিমেন্ট খাই', সম্প্রতি এক পডকাস্টে এমনটাই জানিয়েছেন রিয়্যালিটি টিভি তারকা কিম কারদাশিয়ান (Kim Kardashian)। শুধু তাই নয়, তিনি এটাও জানিয়েছেন, যে এত ওষুধ খেতে খেতে তাঁর ‘পিল ফ্যাটিগ’ তৈরি হয়েছে। এমনকী ফিশ অয়েল বন্ধ করার পর রক্তপরীক্ষায় তার প্রভাবও ধরা পড়েছিল।
কিমের এই মন্তব্য ঘিরে ফের আলোচনায় এসেছে সাপ্লিমেন্ট সংস্কৃতি। সত্যিই কি এত সাপ্লিমেন্ট শরীরের জন্য দরকার? নাকি সুস্থ থাকার চেষ্টাতেই তৈরি হচ্ছে নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজন বুঝে সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উপকারী হতে পারে ঠিকই, কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট শরীরে উলটে বিষের মতো কাজ করতে পারে।
কিম কারদাশিয়ান। ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসকদের কথায়, সাপ্লিমেন্ট কখনওই স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প নয়। এগুলি মূলত শরীরে পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে। কিন্তু অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট খেলে ভিটামিন টক্সিসিটি থেকে শুরু করে একাধিক জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে-এর মতো ফ্যাট-সলিউবল ভিটামিন শরীরে জমে থাকতে পারে। ফলে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মাত্রায় এগুলি খেলে লিভারের ক্ষতি, কিডনিতে পাথর, স্নায়ুর সমস্যা, বমিভাব, পেটের গোলমাল বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নয়। ছবি: সংগৃহীত
অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্টে কী কী বিপদ লুকিয়ে?
ভিটামিন টক্সিসিটি: অতিরিক্ত ভিটামিন শরীরে জমে কিডনি ও লিভারের উপর চাপ ফেলতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে স্নায়ুর ক্ষতিও হতে পারে।
মিনারেল ওভারলোড: অতিরিক্ত আয়রন, জিঙ্ক বা ক্যালসিয়াম শরীরে জমলে হজমের সমস্যা থেকে শুরু করে অঙ্গের ক্ষতি পর্যন্ত হতে পারে।
ওষুধের সঙ্গে সংঘাত: অনেক সাপ্লিমেন্ট ওষুধের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। যেমন, ভিটামিন কে রক্ত পাতলা করার ওষুধের কাজে ব্যাঘাত ঘটায়।
অজান্তে অতিরিক্ত ডোজ: আজকাল সিরিয়াল বা দানা শস্য, এনার্জি বার, জুসের মতো বহু খাবারেও আলাদা করে ভিটামিন-মিনারেল মেশানোর দাবি করা হয়। তার উপর আবার আলাদা সাপ্লিমেন্ট খেলে শরীরে অতিরিক্ত মাত্রা পৌঁছে যেতে পারে।
ভরসা থাকুক প্রাকৃতিক খাবারে। ছবি: সংগৃহীত
সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার আগে কী করবেন?
চিকিৎসকদের পরামর্শ, শুধুমাত্র ট্রেন্ড বা সেলিব্রিটিদের দেখে সাপ্লিমেন্ট শুরু করা উচিত নয়। আগে পরীক্ষা করে বুঝতে হবে শরীরে আদৌ কোনও পুষ্টি বা ভিটামিনের ঘাটতি আছে কি না।
একাধিক সাপ্লিমেন্ট একসঙ্গে খেলে তার পারস্পরিক প্রতিক্রিয়াও হতে পারে। তাই কী কী সাপ্লিমেন্ট খাচ্ছেন, তা চিকিৎসককে নিয়মিত জানানো জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বমিভাব, পেটব্যথা, জন্ডিস, বুক ধড়ফড়, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা হজমের সমস্যা দেখা দিলে তা অবহেলা না করাই ভালো। কারণ অনেক সময় এগুলিই হতে পারে শরীরে অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্টের নিঃশব্দ সতর্কবার্তা।
