শহুরে জীবনে জায়গার অভাব বড় বালাই। ডাইনিং থেকে বেডরুম— সর্বত্রই ঠাসাঠাসি ভিড়। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই বাড়ির একচিলতে বারান্দাকেই বেছে নেন ইষ্টদেবতার মন্দির হিসেবে। কিন্তু মন খুলে পুজো দিলেই কি মিলবে সুফল? বাস্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বারান্দায় ঠাকুরঘর করলেই হল না। সঠিক নিয়ম না মানলে হিতে বিপরীত হতে বাধ্য। ইতিবাচক শক্তির বদলে সংসারে দানা বাঁধতে পারে নেতিবাচক জটিলতা।
প্রতীকী ছবি
বাস্তুশাস্ত্র মতে, বারান্দায় মন্দির করার জন্য সেরা জায়গা হল ‘ঈশান কোণ’ বা উত্তর-পূর্ব দিক। মনে করা হয়, এই কোণেই দেবতাদের বাস। তাই এই পবিত্র দিকে মন্দির স্থাপন করলে ঘরে লক্ষ্মীশ্রী বজায় থাকে। যদি কোনও কারণে এই কোণে জায়গা না হয়, তবে বিকল্প হিসেবে উত্তর বা পূর্ব দিককে বেছে নিতে পারেন। তবে ভুলেও দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে বিগ্রহ রাখবেন না। এতে অমঙ্গলের ছায়া ঘনিয়ে আসতে পারে।
পুজোর সময় আপনার বসার ভঙ্গিমাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপাসনার সময় মুখ যেন থাকে উত্তর বা পূর্ব দিকে। দেবতারা এমনভাবে অবস্থান করবেন যাতে তাঁদের মুখ পশ্চিম দিকে থাকে। মনে রাখবেন, সরাসরি মেঝের ওপর কখনওই মূর্তি রাখবেন না। ঠাকুরঘরটি কাঠ বা মার্বেলের স্ট্যান্ডের ওপর হওয়া বাঞ্ছনীয়। সম্ভব হলে মন্দিরের উপরের অংশটি পিরামিড বা ত্রিভুজ আকৃতির করুন। এই ধরনের নকশা শুভ শক্তিকে কেন্দ্রীভূত করতে সাহায্য করে।
পবিত্রতা বজায় রাখা সুস্থ গৃহকোণের প্রথম শর্ত। মন্দিরের চৌহদ্দিতে যেন জুতো-চটি না থাকে। দেবালয়ের ঠিক পাশেই একটি তুলসী গাছ রাখতে পারেন। এতে বাতাসের নেতিবাচকতা দূর হয়। আর একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি— শৌচালয়ের দেওয়াল ঘেঁষে বা তার উপরে-নীচে যেন ঠাকুরঘর না হয়। শোওয়ার ঘরে মন্দির থাকলেও সামনে একটি পর্দা রাখা বাধ্যতামূলক।
প্রতীকী ছবি
প্রতিদিন ভোরে উঠে ফুল তুলুন। সেই ফুল মন্দিরে দেবতাকে অর্পন করুন। কোনও ভাঙা মূর্তি বা পুরনো অকেজো জিনিস মন্দিরে ভুলেও জমিয়ে রাখবেন না। সামান্য এই নিয়মগুলি মেনে চললেই বারান্দার ওই ছোট মন্দিরটিই হয়ে উঠতে পারে আপনার সংসারের সুখ-শান্তির মূল উৎস। সঠিক দিশা আর পবিত্রতাই বয়ে আনবে সমৃদ্ধি।
