বিহারের পুনরাবৃত্তি। বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআরের পর উত্তরপ্রদেশেও কমল মহিলা ভোটারের সংখ্যা। যোগীরাজ্যে খসড়া তালিকা থেকে বাদ রেকর্ড সংখ্যক ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ভোটার বাদ পড়ায় হইচই শুরু হয়েছিল। এবার নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেল, বাদ পড়া ভোটারের মধ্যে মহিলার সংখ্যা ১ কোটি ৫৪ লক্ষ। এর ফলে মহিলা ও পুরুষ ভোটারের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৮২৪:১০০০। অর্থাৎ, প্রতি ১০০০ জন পুরুষে নারীর সংখ্যা ৮২৪।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক রভনীত রিনওয়ার জানিয়েছেন, খসড়া ভোটার তালিকায় থাকা ১২ কোটি ৫৫ লক্ষের মধ্যে ৫.৬৭ কোটি মহিলা ভোটার। আর পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬.৮৮ কোটি। মহিলা এবং পুরুষ ভোটারের অনুপাত রাজ্যের মধ্যে সাহিদাবাদে সবচেয়ে কমেছে। কেন কমল মহিলা ভোটারের সংখ্যা? এই বিষয়ে কমিশের মুখপাত্র জানাচ্ছেন, মহিলাদের ক্ষেত্রে বিয়ের পরে নতুন জায়গায় নাম উঠলেও বাপের বাড়ির এলাকায় নাম কাটা পড়েনি। ফলস্বরূপ দুজায়াগাতেই নাম থেকে গিয়েছিল। এছাড়াও রয়েছে মৃত ভোটার।
উল্লেখ্য, খসড় তালিকা অনুযায়ী উত্তরপ্রদেশে ‘বৈধ’ ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৫৫ লক্ষ ৫৬ হাজার ২৫ জন। যা ২০২৫-এর অক্টোবরে ছিল ১৫ কোটি ৪৪ লক্ষ মতো। অর্থাৎ কিনা খসড়া তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে ২.৮৯ কোটি ভোটার। বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ২.১৭ কোটি স্থানান্তরিত। অর্থাৎ তাঁরা বর্তমানে সেই স্থানে থাকেন না, যেখানকার ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম রয়েছে। তাঁরা কি আদৌ উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা? উঠছে প্রশ্ন। অন্যদিকে ৪৬.২৩ লক্ষ মৃত ভোটার অর্থাৎ কিনা প্রকৃতপক্ষে ‘ভূত’ বাদ পড়েছে। এছাড়াও ২৫.১৭ লক্ষ এমন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যাঁদের একাধিক স্থানের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে।
এদিন নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশে আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে শুনানি পর্ব। মোট ৩ কোটি ২৬ লক্ষ ভোটারকে এসআইআরের শুনানি নোটিস পাঠানো হবে। ট ৩,৭৯৩টি কেন্দ্রে শুনানি শিবির আয়োজন করা হবে। শুনানি শেষ হলে আগামী ৬ মার্চ এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে উত্তরপ্রদেশে।
