Advertisement

কাশ্মীর নিয়ে সুর নরম তুরস্কের, আঙ্কারার নীতি পরিবর্তনে ক্ষুব্ধ পাকিস্তান

03:00 PM Oct 26, 2021 |

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ফাটল ধরেছে তুরস্ক ও পাকিস্তানের বন্ধুত্বে। আর এই মন কষাকষির নেপথ্যে রয়েছে কাশ্মীর ইস্যু। কারণ, সম্প্রতি কাশ্মীর নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে সুর নরম করেছে আঙ্কারা। আর এরদোগান প্রশাসনের এই নীতি পরিবর্তনে অশনি সংকেত দেখছে ইসলামাবাদ।

Advertisement

[আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে পাকিস্তানের জয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশের জের, রাজস্থানে চাকরি গেল শিক্ষিকার]

সম্প্রতি ‘insideover’ নামের এক ইতালীয় নিউজ ওয়েবসাইটে পাকিস্তান ও তুরস্কের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে একটি প্রবন্ধ লেখেন রাজনৈতিক ও ভূকৌশলগত বিশেষজ্ঞ সের্গিও রেসতেল্লি। সেখানে তিনি জানান, তুরস্কের উপর খুশি নন পাকিস্তানরে নীতি নির্ধারকরা। কারণ, কাশ্মীর নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে আর সেই অর্থে ইসলামাবাদের পক্ষে আওয়াজ তুলছে না আঙ্কারা। একইসঙ্গে, কাশ্মীর নিয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তায়েপ এরদোগান বলেও মনে করছে পাকিস্তান (Pakistan)।

googletag.cmd.push(function() { googletag.display('div-gpt-ad-1630720090-3');});

বিগত দিনে রাষ্ট্রসংঘে কাশ্মীর নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে কাশ্মীর সমস্যাকে উইঘুর ও রোহিঙ্গা নির্যাতনের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি। আর তারপর থেকেই নতুন আলো দেখতে পায় পাকিস্তান। কিন্তু ইসলামাবাদের সেই আশায় আপাতত জল ঢেলে দিয়েছে তুরস্ক। সম্প্রতি পাক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে কাশ্মীর নিয়ে কোনও কথা বলেননি এরদোগান। কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদী তথা পাকপন্থী নেতা সৈয়দ আলি শাহ গিলানির মৃত্যুতেও কোনও শোকবার্তা দেননি এরদোগান। আর তাতেই অশনি সংকেত দেখছে পাকিস্তান।

আচমকা কেন কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে সুর নরম করল তুরস্ক? বিশ্লেষকদের মতে, একদিক ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বেকায়দায় পড়েছে এরদোগান প্রশাসন। সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি ‘FATF‘-এর ধূসর তালিকায় স্থান পেয়েছে তুরস্ক। একইসঙ্গে দেশের ইসলামিকরণ ও হেগিয়া সোফিয়াকে মসজিদে পরিবর্তন করায় জনপ্রিয়তা ধাক্কা খেয়েছে এরদোগানের। উগ্র ইসলামপন্থী এরদোগানের কাশ্মীর নীতি অনেকটাই তার দেশের রাজনীতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে তৈরি করা। এবার মুসলিম বিশ্বে ইসলামের ধ্বজাধারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে কাশ্মীর তাস খেলেছেন তিনি। আর তা করতে গিয়েই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও মিশরের মতো দেশগুলির বিরাগভাজন হয়েছেন তিনি। তাই আপাতত আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের ছবি স্বচ্ছ করতে ওই দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার চেষ্টা করছেন এরদোগান। আর মুসলিম বিশ্বের দেশগুলির সঙ্গে নয়াদিল্লির মজবুত সম্পর্কের জেরে আপাতত কিছুটা সুর নরম করেছেন তিনি।

[আরও পড়ুন: বিখ্যাত হেগিয়া সোফিয়ার পর ফের অতীতের এক গির্জাকে মসজিদে বদলে দিল তুরস্ক সরকার]

Advertisement
Next